বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ফাইল ছবি
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চালু করা রাজস্ব খাতের সংস্কার অধ্যাদেশ এখনই জাতীয় সংসদে বিল আকারে তোলা হচ্ছে না। ফলে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ-২০২৫’ কার্যকরতা হারাতে বসেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই পদক্ষেপ দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ‘অরাজনৈতিক’ সংস্কারের ক্ষেত্রেও সরকারের পিছু হাটার ইঙ্গিত দেয়।
২০২৫ সালের ১২ মে অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশটির মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর কাঠামো পুনর্গঠন করে দুটি বিভাগে ভাগ করে। একটি হলো রাজস্ব নীতি বিভাগ যা করনীতি প্রণয়ন, আইন সংশোধন, আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং গবেষণার কাজ দেখবে। অন্যটি হলো রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ যা মূলত কর আদায়ের দায়িত্বে থাকবে।
ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা দীর্ঘদিন ধরে এই বিভাজনের সুপারিশ করে আসছিলেন। তবে বিএনপি সরকার অধ্যাদেশটি এখনই সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন না করার কারণে, সরকারের এই ‘অরাজনৈতিক’ উদ্যোগের কার্যকারিতা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিল বিলম্বের ফলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ঋণ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিস্তি ও নতুন ঋণ প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ, যিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাজস্ব খাত সংস্কার কমিটির প্রধান ছিলেন। তিনি বলেছেন, কোনো সরকারই আগে এই সংস্কার করতে পারেনি। এনবিআরের নীতি প্রণয়ন এবং কর আদায়ের দায়িত্ব একত্রিত থাকায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব ছিল না। এই সংস্কার তা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল।
তবে বর্তমান সরকার অধ্যাদেশটি পর্যালোচনার কথা বলছে। মজিদ আশা প্রকাশ করেছেন যে, রাজস্ব খাতের সংস্কার বজায় রাখা হবে।
রাজস্ব খাতের এই সংস্কার অনুপস্থিত থাকায় ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা অনিশ্চয়তায় পড়ছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের শিল্পায়ন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, নতুন খাতের বিকাশ এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও নিরপেক্ষ করনীতি প্রয়োজন। এক প্রতিষ্ঠান দ্বারা নীতি ও আদায়ের কাজ চালানো হলে স্বার্থের সংঘাত ও পক্ষপাতের সম্ভাবনা বাড়ে।
বিএনপি সরকার অধ্যাদেশটি সংসদে বিল আকারে না তোলার কারণ হিসেবে এনবিআরের কিছু কর্মকর্তার মধ্যে অস্পষ্টতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সংস্থার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সরকার সংস্কার চালু রাখতে চায়, তবে আইন আকারে নয় নতুন করে বিল আকারে উপস্থাপন করতে চাইছে।
বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড)-এর চেয়ারপারসন আবুল কাসেম খান বলেছেন, রাজস্ব নীতি তৈরি ও কর আদায়ের দায়িত্ব দুটি পৃথক সংস্থার হাতে দেওয়ার পরামর্শ বহু বছর ধরে আসছে। এটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য। সংস্কার থেকে সরে যাওয়া মোটেও উচিত নয়।