বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, অন্যায়, অত্যাচার, অসততা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে সেগুলোকে পরাজিত করাই দুর্গাপূজার মূল শিক্ষা।
রোববার (১৮ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে রাজধানীর রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রয়েছে, তা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য। বিশ্বজুড়ে যখন সংঘাত, হানাহানি ও বিদ্বেষের পরিবেশ বিরাজ করছে তখন বাংলাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদ্যাপন করতে পারছেন এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন সংঘাত, হানাহানি ও হিংসা-বিদ্বেষ বিরাজ করছে তখন বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাঁদের ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উদ্যাপন করতে পারছেন এটি আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই উৎসব ন্যায়, শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের বার্তা বহন করে। অন্যায় ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে মানুষের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানই এ উৎসবের অন্যতম তাৎপর্য।
অনুষ্ঠানে রমনা কালীমন্দিরের ইতিহাস তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মন্দিরটি ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়েছিল এবং পরে ১৯৭৩ সালে এটি ধ্বংস করা হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন।
রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, ২০০১ সালে বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের উদ্যোগে এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে রমনা কালীমন্দির পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর থেকে মন্দিরটিকে পুরোনো ঐতিহ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান। এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি।
দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে বিভিন্ন সময় অপব্যাখ্যা ও অপপ্রচার করা হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ঐক্য বজায় রাখা জরুরি।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। একই সঙ্গে দুর্গাপূজার সার্বিক সফলতা কামনা করেন এবং অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপনকারীদের ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে রমনা মন্দিরের সদস্য সুভাষ চন্দ্র দাস রাষ্ট্রপতিকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠীবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার, রমনা মন্দিরের সভাপতি অপর্ণা রায় দাস এবং সাধারণ সম্পাদক মিলটন বৈদ্য।
এ ছাড়া রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিবসহ বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে ধর্মীয় উৎসবের মধ্য দিয়ে শান্তি, মানবিকতা ও সম্প্রীতির চর্চা জোরদার করার পাশাপাশি দেশের সব সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার গুরুত্ব উঠে আসে।