বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

১০ বছরে দেশের কণ্ঠ : নতুন প্রত্যয়ে আগামীর পথে
প্রিয় পাঠক, শুভানুধ্যায়ী, বিজ্ঞাপনদাতা, সংবাদকর্মী, হকার, এজেন্ট ও দৈনিক দেশের কণ্ঠ পরিবারের সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা। ‘সব পাঠকের কাগজ’ স্লোগান ধারণ করে ২০১৭ সালের ১১ জুন দৈনিক দেশের কণ্ঠের প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়। প্রায় দেড় বছর সীমিত পরিসরে ছাপার পর ২০১৮ সালের ১০ ডিসেম্বর পাঠকের হাতে পৌঁছায় দেশের কণ্ঠ। সে হিসেবে প্রতিবছর ১১ জুন দেশের কণ্ঠের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করি। এবছর বেশ কয়েক মাস পিছিয়ে ১৪ অক্টোবর নবম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করছি।
সময়ের পরিক্রমায় দৈনিক দেশের কণ্ঠ আজ নবম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পার করে ১০ বছরে পা দিয়েছে। এই দীর্ঘ পথচলা আমাদের জন্য যেমন আনন্দ ও গর্বের, তেমনি আত্মমূল্যায়ন, দায়িত্ববোধ এবং ভবিষ্যতের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে ভাবারও এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। পেছনে ফিরে তাকালে দেখতে পাই, একটি সংবাদপত্রের যাত্রা কেবল প্রকাশনার ধারাবাহিকতা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বহু মানুষের শ্রম, স্বপ্ন, প্রত্যাশা, সংগ্রাম ও ভালোবাসা।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দৈনিক দেশের কণ্ঠের পথচলায় আমাদের মূল প্রেরণা ছিল মানুষের কথা বলা, সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরা এবং পাঠকের কাছে নির্ভরযোগ্য সংবাদ পৌঁছে দেওয়া। সেই প্রত্যয় ধারণ করেই আমরা এগিয়ে চলেছি। পথচলায় নানা সীমাবদ্ধতা, প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ এসেছে; সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের কাঠামো ও পাঠকের চাহিদায়ও এসেছে নতুন মাত্রা। এসব বাস্তবতা আমাদের শিখিয়েছে—একটি সংবাদপত্রকে শুধু টিকে থাকলেই চলবে না, সময়ের সঙ্গে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে হবে, পাঠকের আস্থা অর্জন করতে হবে এবং সমাজের প্রতি নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
১০ বছরে দাঁড়িয়ে আমাদের অঙ্গীকার তাই আরও সুস্পষ্ট—সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চর্চা, জনস্বার্থের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দৈনিক দেশের কণ্ঠকে আরও সমৃদ্ধ ও পাঠকবান্ধব সংবাদমাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলা।
পাঠকের আস্থাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন : একটি সংবাদপত্রের প্রকৃত শক্তি তার পৃষ্ঠাসংখ্যা, প্রচারসংখ্যা কিংবা প্রকাশনার পরিসরে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে পাঠকের বিশ্বাস, সত্য প্রকাশের সাহস, ন্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা এবং মানুষের প্রত্যাশার প্রতি দায়বদ্ধতার মধ্যে। পাঠক যখন একটি সংবাদপত্রের সংবাদকে নির্ভরযোগ্য মনে করেন, তখন সেই সংবাদপত্রের ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দায়িত্বও অর্পিত হয়।
দৈনিক দেশের কণ্ঠের কাছে পাঠকের আস্থা অমূল্য সম্পদ। এই আস্থা অর্জনের জন্য প্রয়োজন তথ্যের যথার্থতা, সংবাদের ভারসাম্য, নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি এবং পেশাগত সততা। আমরা বিশ্বাস করি, সংবাদমাধ্যমের কাজ শুধু ঘটনা জানানো নয়; ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরা, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রশ্ন সামনে আনা এবং পাঠককে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করাও এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
আমাদের বিশ্বাস, দৈনিক দেশের কণ্ঠ এমন একটি সংবাদমাধ্যম হিসেবে গড়ে উঠেছে, যেখানে সত্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, মানুষের বক্তব্য যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় এবং সমাজের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো দায়িত্বশীলতার সঙ্গে উপস্থাপিত হয়। ভুলের ঊর্ধ্বে কোনো প্রতিষ্ঠান নয়—তাই আত্মসমালোচনা, গঠনমূলক পরামর্শ গ্রহণ এবং প্রয়োজনে সংশোধনের মানসিকতাকেও আমরা সাংবাদিকতার অপরিহার্য অংশ বলে মনে করি।
মানুষের কথা বলাই আমাদের অঙ্গীকার : বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা বহুমাত্রিক। এ দেশের মানুষের পরিশ্রম, মেধা, সৃজনশীলতা ও প্রতিকূলতা অতিক্রম করার ক্ষমতা আমাদের প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করে। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন, সামাজিক বৈষম্য এবং মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলোও আমাদের সম্মিলিত মনোযোগ দাবি করে।
একটি দায়িত্বশীল সংবাদপত্রের কাছে এসব বিষয় কেবল সংবাদ প্রকাশের উপাদান নয়; এগুলো মানুষের জীবন, ভবিষ্যৎ ও সামাজিক অগ্রগতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। গ্রামের কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, নদী ও উপকূলের বাসিন্দা, তরুণ প্রজন্ম, নারী, শিক্ষার্থী, উদ্যোক্তা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমস্যা ও সম্ভাবনাকে তুলে ধরা সংবাদমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
আমরা চাই, দৈনিক দেশের কণ্ঠে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম যেমন গুরুত্ব পাবে, তেমনি উঠে আসবে তাঁদের সাফল্য, উদ্যোগ, স্বপ্ন ও সম্ভাবনার গল্প। অন্যায়-অনিয়মের বিষয়ে তথ্যভিত্তিক প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি ইতিবাচক পরিবর্তন, জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ এবং দেশের অগ্রগতিতে অবদান রাখা মানুষদের কাজও যথাযথভাবে তুলে ধরতে চাই আমরা।
আমাদের বিশ্বাস, সংবাদপত্র মানুষের কণ্ঠস্বরকে বৃহত্তর পরিসরে পৌঁছে দিতে পারে। সঠিক তথ্য, যুক্তিনির্ভর আলোচনা এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি, জবাবদিহির পরিবেশ তৈরি এবং গঠনমূলক পরিবর্তনের পথ সুগম করা সম্ভব।
সময়ের পরিবর্তনে ডিজিটাল অগ্রযাত্রা : বর্তমান বিশ্বে সংবাদমাধ্যম এক গভীর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তার, স্মার্টফোনের ব্যবহার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তা সংবাদ গ্রহণ ও পরিবেশনের প্রচলিত ধারণাকে বদলে দিয়েছে। এখন পাঠক শুধু সংবাদপত্রের মুদ্রিত পাতায় সীমাবদ্ধ নন; তাঁরা মুহূর্তের মধ্যে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দেশ-বিদেশের সংবাদ জানতে চান, ভিডিও প্রতিবেদন দেখতে চান এবং গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার তাৎক্ষণিক তথ্য পেতে চান।
এই পরিবর্তিত বাস্তবতা উপলব্ধি করে দৈনিক দেশের কণ্ঠও মুদ্রিত সংবাদপত্রের পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে অগ্রযাত্রা শুরু করেছে। আমাদের এই উদ্যোগ সময়ের দাবি পূরণের পাশাপাশি বৃহত্তর পাঠকসমাজের কাছে পৌঁছানোর নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। আমরা মনে করি, একটি আধুনিক সংবাদমাধ্যমের জন্য প্রযুক্তির পরিবর্তনকে বুঝতে পারা এবং সেই অনুযায়ী নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
ডিজিটাল মাধ্যমে আমাদের যাত্রা কেবল সংবাদ প্রকাশের নতুন একটি ক্ষেত্র তৈরি করা নয়; এটি দৈনিক দেশের কণ্ঠের কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত, গতিশীল ও বহুমাত্রিক করে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মুদ্রিত সংবাদপত্রের অভিজ্ঞতা, সংবাদ সংগ্রহের দক্ষতা এবং সাংবাদিকতার মূল্যবোধকে ভিত্তি করে আমরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও পাঠকের কাছে নির্ভরযোগ্য সংবাদ পৌঁছে দিতে চাই।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থানরত পাঠক, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং নতুন প্রজন্মের সংবাদপাঠকদের সঙ্গে আরও নিবিড় যোগাযোগ গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য, ভৌগোলিক দূরত্ব কিংবা সংবাদ গ্রহণের মাধ্যম যেন পাঠককে দৈনিক দেশের কণ্ঠ থেকে বিচ্ছিন্ন করে না রাখে। বরং মুদ্রিত পত্রিকা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়ে পাঠকের কাছে পৌঁছানোর পরিসর আরও বিস্তৃত হোক।
আমরা বিশ্বাস করি, ডিজিটাল অগ্রযাত্রা দৈনিক দেশের কণ্ঠের সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সংবাদ পরিবেশনের পরিসর বাড়ানো, নতুন পাঠক তৈরি করা এবং সময়োপযোগী সাংবাদিকতার সক্ষমতা অর্জন করাই হবে আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।
ডিজিটাল সাংবাদিকতা: দ্রুততা, নির্ভুলতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা : ডিজিটাল মাধ্যমে সংবাদ পরিবেশনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো দ্রুততার সঙ্গে তথ্য পৌঁছে দেওয়া। গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, জনজীবনের সংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অর্থনৈতিক পরিবর্তন কিংবা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে পাঠককে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ভিডিও সংবাদ, সাক্ষাৎকার, বিশেষ প্রতিবেদন, তথ্যচিত্র, সরেজমিন অনুসন্ধান এবং মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনার মাধ্যমে সংবাদকে আরও আকর্ষণীয় ও সহজবোধ্য করে তোলা সম্ভব।
তবে দ্রুততার এই যুগে একটি বিষয় আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে—সংবাদ প্রকাশের গতি কখনোই সত্যতা যাচাইয়ের বিকল্প হতে পারে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রতিটি তথ্য নির্ভরযোগ্য নয়। ভুল তথ্য, গুজব ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। তাই ডিজিটাল সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও তথ্য যাচাই, নির্ভরযোগ্য সূত্র ব্যবহার, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং দায়িত্বশীল উপস্থাপন অপরিহার্য।
দৈনিক দেশের কণ্ঠের ডিজিটাল অগ্রযাত্রায় আমরা এই নীতিগুলোকেই গুরুত্ব দিতে চাই। প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার করেও সাংবাদিকতার মৌলিক মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না। কারণ, পাঠকের আস্থা অর্জনের মূল ভিত্তি কোনো প্রযুক্তি বা প্ল্যাটফর্ম নয়; বরং সত্যনিষ্ঠা, পেশাগত সততা এবং জনস্বার্থের প্রতি দায়বদ্ধতা।
আগামীর পরিকল্পনা: আধুনিক ও বহুমাত্রিক সংবাদমাধ্যম : নবম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো মুদ্রিত সংবাদপত্র ও ডিজিটাল মাধ্যমের মধ্যে একটি কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা। আমরা চাই, দৈনিক দেশের কণ্ঠের ঐতিহ্য, অভিজ্ঞতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করে প্রযুক্তিনির্ভর সংবাদ পরিবেশনের নতুন সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে।
ভবিষ্যতে অনলাইন সংবাদ প্রকাশের মানোন্নয়ন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্যকর উপস্থিতি, ভিডিও সাংবাদিকতার বিকাশ, মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট তৈরি, বিশেষ প্রতিবেদন ও সাক্ষাৎকার প্রকাশ এবং দক্ষ সংবাদকর্মী গড়ে তোলার বিষয়ে আমাদের মনোযোগ থাকবে। একই সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদনা ও উপস্থাপনার ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে সংবাদ পরিবেশনের মান আরও উন্নত করতে চাই।
আমাদের পরিকল্পনা শুধু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে উপস্থিতি বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আমরা চাই, জাতীয় সংবাদ ও আন্তর্জাতিক ঘটনাবলির পাশাপাশি স্থানীয় জনজীবন, কৃষি, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, সংস্কৃতি, খেলাধুলা এবং তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনা আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরতে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ যেন বৃহত্তর পাঠকসমাজের কাছে পৌঁছাতে পারে, সে বিষয়েও আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে।
পাঠকের চাহিদা ও সংবাদ গ্রহণের অভ্যাস পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই আমাদেরও শিখতে হবে, নতুন দক্ষতা অর্জন করতে হবে এবং সংবাদ পরিবেশনের পদ্ধতিকে সময়োপযোগী করে তুলতে হবে। প্রযুক্তির ব্যবহার, পেশাগত প্রশিক্ষণ, পরিকল্পিত সম্প্রসারণ এবং পাঠকের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে দৈনিক দেশের কণ্ঠকে আরও আধুনিক, পাঠকবান্ধব ও প্রতিযোগিতামূলক সংবাদমাধ্যমে পরিণত করার প্রত্যাশা রাখি।
আমরা জানি, এই লক্ষ্য অর্জনে সময়, শ্রম, পরিকল্পনা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। পথচলায় সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ আসবে, কিন্তু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য এবং পাঠকের সহযোগিতা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগাবে।
সহযোগিতার বন্ধনেই এগিয়ে যাওয়া : একটি সংবাদপত্রের অগ্রযাত্রা কখনো একক প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়। এর সঙ্গে যুক্ত থাকেন সংবাদকর্মী, সম্পাদকীয় বিভাগ, মুদ্রণ ও বিপণনকর্মী, বিজ্ঞাপনদাতা, হকার, এজেন্ট এবং অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা একটি সংবাদপত্রকে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেয় এবং প্রকাশনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
দৈনিক দেশের কণ্ঠের পথচলায় যাঁরা পাশে ছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আমাদের সংবাদকর্মীদের নিষ্ঠা ও শ্রম, বিজ্ঞাপনদাতাদের সহযোগিতা, হকার ও এজেন্টদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং শুভানুধ্যায়ীদের উৎসাহ আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জুগিয়েছে।
বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ আমাদের পাঠকদের প্রতি। আপনাদের ভালোবাসা, পরামর্শ, সমালোচনা ও প্রত্যাশা আমাদের কাজকে আরও দায়িত্বশীল করার সুযোগ তৈরি করে। আপনাদের আস্থা আমাদের জন্য যেমন সম্মানের, তেমনি সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের অন্যতম প্রধান কর্তব্য। আমরা বিশ্বাস করি, পারস্পরিক সহযোগিতা, পেশাগত নিষ্ঠা এবং একটি অভিন্ন লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ করতে পারলে দৈনিক দেশের কণ্ঠ আগামী দিনে আরও বিস্তৃত পরিসরে তার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারবে।
শেষ কথা: নতুন প্রত্যয়ে আগামীর পথে : নবম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমাদের কাছে অতীতের পথচলার মূল্যায়ন, বর্তমানের দায়িত্ব উপলব্ধি এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা বাস্তবায়নের এক নতুন প্রেরণা। আমরা আমাদের অর্জনকে সামনে রেখে আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চাই না; বরং সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে আরও ভালো করার চেষ্টা করতে চাই।
মুদ্রিত সংবাদপত্রের ঐতিহ্যকে ধারণ করেও ডিজিটাল মাধ্যমে আমাদের নতুন অগ্রযাত্রা আরও শক্তিশালী হোক। প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দৈনিক দেশের কণ্ঠ হয়ে উঠুক আরও আধুনিক, নির্ভরযোগ্য ও পাঠককেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম সেটাই আমাদের লক্ষ্য। সত্য, ন্যায়, বস্তুনিষ্ঠতা এবং জনস্বার্থের প্রতি অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে আমরা মানুষের আস্থা অর্জন করতে চাই।
আমাদের স্বপ্ন, দৈনিক দেশের কণ্ঠ শুধু একটি সংবাদপত্রের পরিচয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং মুদ্রিত ও ডিজিটাল—উভয় মাধ্যমে মানুষের কথা, অধিকার, প্রত্যাশা ও সম্ভাবনাকে তুলে ধরার একটি দায়িত্বশীল গণমাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
নবম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই শুভক্ষণে সবার প্রতি আবারও জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা। আপনাদের ভালোবাসা, সহযোগিতা ও আস্থা সঙ্গে নিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চাই আরও বহুদূর।
মুদ্রিত পাতার ঐতিহ্য, ডিজিটাল বিশ্বের সম্ভাবনা—সত্যের পথে, মানুষের পাশে থেকে দেশের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।
দৈনিক দেশের কণ্ঠ এগিয়ে যাক সব পাঠকের আস্থায়।