বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
গ্রামপুলিশ সদস্যদের মাসিক বেতন ও অবসরকালীন অনুতোষিক বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাধারণ গ্রামপুলিশ সদস্যদের মাসিক বেতন ৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রামপুলিশ প্রধানদের বেতন ৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সাধারণ গ্রামপুলিশ সদস্যদের অবসরকালীন অনুতোষিক ৭০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে গ্রামপুলিশ প্রধানদের অনুতোষিক ৮০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে গ্রামপুলিশের মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর থেকেই সরকারের এ সিদ্ধান্ত কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গ্রাম পুলিশপ্রধানের যাতায়াত ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে এখন থেকে গ্রাম পুলিশকে প্রতি মাসে ১৫০ টাকা করে মোবাইল ভাতা দেওয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
পদবি পরিবর্তন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দফাদার কিংবা মহল্লাদার নয়, এখন থেকে আপনাদের পেশাগত পরিচয় হবে গ্রাম পুলিশ। মহল্লাদার হচ্ছেন গ্রাম পুলিশ এবং দফাদার হচ্ছেন গ্রাম পুলিশ প্রধান। সরকারিভাবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
তৃণমূলের এই বিশাল বাহিনীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।
তৃণমূলে নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র এবং সমাজকে এগিয়ে নিতে হলে নারীর রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জরুরি। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে নতুনভাবে আরও দুজন করে নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগ দেওয়া হবে। একইসঙ্গে নারী গ্রাম পুলিশদের মাতৃত্বকালীন ছুটি আজ থেকে ছয় মাস করা হলো।
তিনি বলেন, সরকার দেশব্যাপী এক লাখ হেলথ ওয়ার্কার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার মধ্যে ৮০ হাজারই হবেন নারী।
গ্রাম পুলিশের কাজের সম্মানার্থে প্রতিটি ইউনিয়নের একটি বড় রাস্তার নামকরণ ‘গ্রাম পুলিশ সড়ক’ করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় এসব সড়কে গাছ লাগানো হবে এবং গাছগুলো পরিণত হলে তা বিক্রির অর্থ ওই ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশের মাঝে বণ্টন করা হবে যাতে তারা স্বনির্ভর হতে পারেন।
এছাড়া আগে গ্রাম পুলিশদের প্রতি ৫ বছর পরপর বাইসাইকেল দেওয়া হলেও, এখন থেকে তা ৩ থেকে সাড়ে ৩ বছরের মধ্যে দেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে শুধু রাজনৈতিক ব্যবস্থাকেই ধ্বংস করা হয়নি, রাষ্ট্র ও সমাজের চূড়ান্ত সামাজিক অবক্ষয় ঘটেছিল। তারা পরিবারে পরিবারে বিরোধ ও তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিহিংসা ছড়িয়ে দিয়েছিল।

একটি নিরাপদ ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিক মূল্যবোধ ও সম্প্রীতি পুনর্গঠনে গ্রাম পুলিশকে নিরপেক্ষ ও জনবান্ধব ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি সবাইকে নিজ নিজ এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার এবং বৃক্ষরোপণের তাগিদ দেন।
মহাসমাবেশে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আসা প্রায় ৪১ হাজার গ্রাম পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
এতে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালামসহ সামরিক-বেসামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।