বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ফলে দেশের বিদ্যমান বেকারত্ব পরিস্থিতি যেন আরও জটিল হয়ে না ওঠে সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -ছবি : সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ফলে দেশের বিদ্যমান বেকারত্ব পরিস্থিতি যেন আরও জটিল হয়ে না ওঠে সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, প্রযুক্তির অগ্রগতি হতে হবে মানুষের কল্যাণে। মানুষকে প্রযুক্তির অধীন না করে প্রযুক্তিকে মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থা বর্তমানে বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আগামী দিনে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই এআই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। ফলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান কেমন হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতার ওপর।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য এআই কেবল আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন নয় বরং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার নতুন দুয়ার। উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, শিল্প খাতের আধুনিকায়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে এ প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে।
তবে প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি এর ঝুঁকির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার পরামর্শ দেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেন মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যম হয়ে না ওঠে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য এআইয়ের নিরাপদ ব্যবহার, জবাবদিহি এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
দেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ বেকারত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, এআইয়ের বিস্তারের কারণে যেন কর্মসংস্থানের সংকট আরও ঘনীভূত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। প্রযুক্তির ব্যবহার এমনভাবে নিশ্চিত করতে হবে যাতে মানুষের দক্ষতা ও কর্মক্ষমতা বাড়ে এবং মানবিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন থাকে।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তরুণ জনগোষ্ঠী। প্রযুক্তির প্রতি তাদের আগ্রহ ও নতুন কিছু করার সক্ষমতা রয়েছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুযোগ কাজে লাগাতে এই তরুণদের আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তোলা জরুরি।
তিনি জানান, এআইয়ের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার মানবকেন্দ্রিক জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে নৈতিকতা, মানবাধিকার, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বশীল উদ্ভাবনের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলা ভাষায় এআই প্রযুক্তির সক্ষমতা তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, এআইকে শুধু পরিচালন ব্যয় কমানোর প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচনা করলে চলবে না। বরং নতুন পণ্য ও সেবা উদ্ভাবন, আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরিতে এ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, তৈরি পোশাকশিল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ যেমন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পেয়েছে তেমনি ভবিষ্যতে এআইশিল্পও দেশের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। এজন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষক, বিনিয়োগকারী ও তরুণদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
রাষ্ট্রপতির আশা, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ এআই প্রযুক্তির শুধু ব্যবহারকারী নয় বরং উদ্ভাবক দেশ হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে। একই সঙ্গে ২০৪১ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য অর্জনেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিজ্ঞানী, গবেষক, প্রযুক্তিবিদ, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের অভিনন্দন জানান এবং ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।