বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ -ছবি : সংগৃহীত
আধুনিক, সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যের সঙ্গে বেশি সম্পৃক্ত। তাই আন্তর্জাতিক যাতায়াত ও বাণিজ্য নির্বিঘ্ন রাখার পাশাপাশি সীমান্ত অতিক্রমকারী বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার একটি হোটেলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ইমিগ্রেশন ও বর্ডার গভর্নেন্স সংক্রান্ত আইওএম কৌশলগত রূপরেখা (২০২৭–২০৩১)’ শীর্ষক ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় একদিকে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, অন্যদিকে বৈধ ভ্রমণ ও বাণিজ্যের পথও সহজ রাখতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার জাতীয় সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল ২০২৬–২০৩১ এবং পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন রূপরেখা বাস্তবায়নে কাজ করছে।
তিনি জানান, ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল প্রয়োগ, কাগজবিহীন প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সরকারি সেবাগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও তথ্য বিনিময়ের সক্ষমতা বাড়ানো সরকারের অগ্রাধিকার।
ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নীতি ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে বিমানবন্দর, স্থলবন্দর এবং ইমিগ্রেশন চেকপোস্টগুলোর কার্যক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। তবে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা শুধু প্রযুক্তিনির্ভর হলে চলবে না; মানবাধিকার, সুরক্ষা ও পেশাদারত্বকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
বহুজাতিক অপরাধ, মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের একক দায়িত্ব নয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে আইওএমের প্রস্তাবিত ২০২৭–২০৩১ মেয়াদের কৌশলগত রূপরেখাকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক মানের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তুলতে সংস্থাটির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগীদের প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর অনুরোধ করেন।
আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ড. লরা টম বন্ডে বলেন, অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে ভ্রমণের ধরন ও কার্যক্রমের চাহিদা পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা, দক্ষ জনবল এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও উন্নত সমন্বয় প্রয়োজন। সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে কারিগরি দক্ষতা ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে সহযোগিতা করতে আইওএম আগ্রহী।
ব্রিফিংয়ে বৈধ যাতায়াত ও বাণিজ্য সহজ করার পাশাপাশি মানব পাচার, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ এবং পরিচয় জালিয়াতি প্রতিরোধের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
আইওএমের কৌশলগত রূপরেখায় সম্ভাব্য সহযোগিতার চারটি ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল ব্যবস্থা ও তথ্য আদান-প্রদান, প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নির্বাচিত সীমান্ত পয়েন্টে অবকাঠামো ও সেবার উন্নয়ন। রূপরেখা তৈরিতে সরকারের জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১ মেয়াদের পাঁচ বছরব্যাপী সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসান এবং উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং, ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী ও অংশীদার সংস্থার প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।