বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর বৈঠক । ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে ডিজিটাল পেমেন্ট, টেলিযোগাযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ই-কমার্স এবং ডিজিটাল অর্থনীতিসহ প্রযুক্তির বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে সরকার। এসব ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
রোববার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেরেক লোক।
এসময় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহার এবং প্রযুক্তিনির্ভর জনসেবা সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ সরকার। এসব ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তিনি বলেন, দেশের বিস্তৃত ডাকঘর নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের মাধ্যমে ই-কমার্স, পার্সেল সরবরাহ ও সমন্বিত পণ্য পরিবহন সেবার কার্যকর কেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করতে পারে।
সরকারি সেবায় ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যসেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নাগরিক সেবার মান উন্নয়ন, সরকারি কার্যক্রমের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে পারে।
অন্যদিকে সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার ডেরেক লোক বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি ডাক বিভাগের বিস্তৃত অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে ই-কমার্স, পার্সেল সরবরাহ ও পণ্য পরিবহন সেবার উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, সরকারি সেবায় ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানো, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং জনসেবার দক্ষতা বৃদ্ধিতে সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের কাজে আসতে পারে।
স্বাস্থ্যসেবা, গবেষণা, জীববৈজ্ঞানিক চিকিৎসাপ্রযুক্তি এবং সরকারি সেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের সম্ভাবনাও তুলে ধরেন হাইকমিশনার।
তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর পরিবর্তনশীল বিশ্বে তরুণ জনগোষ্ঠীকে ভবিষ্যতের কর্মবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলা জরুরি। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রযুক্তিগত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময়ে সিঙ্গাপুর আগ্রহী।
সাক্ষাতে উভয় পক্ষ ডিজিটাল অর্থনীতি, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জনসেবার আধুনিকায়নে দুই দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে মত দেন। এসব ক্ষেত্রে বাস্তবভিত্তিক যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
এ সময় সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফিলিপ ওং, ডেস্ক কর্মকর্তা ম্রিথিনি টিজিট্রিথারান এবং এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুরের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক উন্নয়ন অংশীদার বেঞ্জামিন চু উপস্থিত ছিলেন।