বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ -ছবি : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে
শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শ্রমিকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করা, সহিংসতা ছড়ানো কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর কোনো অপচেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও শ্রমিক নেতা শিমুল বিশ্বাস।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত কয়েকদিন ধরে শ্রমিকদের ব্যবহার করে একটি মহল অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।
সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ, আগুন জ্বালানোসহ বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলানো হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে কারা ইন্ধন দিচ্ছে তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে।
এরই মধ্যে কিছু ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তাদের কর্মকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ, অডিও এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কিছু শিল্প মালিক এবং শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে থাকা ব্যক্তিরা এসব অস্থিরতা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এমনকি সাবেক সরকারের রাজনৈতিক পরিচয়ধারী কিছু শিল্প মালিক, যাদের কেউ কেউ সাবেক সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন, অস্থিরতার পেছনে তাদেরও ভূমিকা রয়েছে বলে সরকারের কাছে তথ্য আছে এবং তা প্রমাণ হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত শ্রমিক কিংবা শ্রমিক সংগঠনের নেতারা কখনো নিজেদের কর্মসংস্থান ধ্বংস হোক, এমনটা চাইতে পারেন না। গত কয়েকদিনের অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টায় প্রকৃত শ্রমিক বা শ্রমিক সংগঠনের নেতারা জড়িত নন বলে সরকার বিশ্বাস করে। যারা ভিন্ন রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য শ্রমিকদের ব্যবহার করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের প্রতিহত করা হবে। সীমান্তের ওপার থেকে কোনো ধরনের ইন্ধন দেওয়া হলেও তা মোকাবিলা করা হবে।
তিনি বলেন, গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে শিল্পকারখানা চালু রাখা এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। মালিকরা সরকারকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। যেসব শিল্প মালিক উদ্দেশ্যমূলকভাবে কারখানা বন্ধ করেছেন, তাদের তালিকা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করা শ্রমিক নেতা ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর নামও চাওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। পুলিশ বিভাগ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও যোগাযোগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ঠিক করা হয়েছে। মালিক সংগঠনগুলোও তাদের ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করেছে।
তিনি বলেন, ‘সরকারের ‘‘সুরক্ষা’’ অ্যাপের মাধ্যমে যেকোনো মুহূর্তে শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি ও তথ্য আদান-প্রদান করা হবে। এ জন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে সার্বিক পরিস্থিতি মনিটর করা হবে।
কারখানা বন্ধের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আর্থিক সংকট, রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়া কিংবা নিজস্ব কারণে কিছু কারখানা আগে থেকেই বন্ধ রয়েছে। সেগুলো ভিন্ন বিষয়। তবে সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে গাজীপুর ও কালিয়াকৈর এলাকায় কিছু কারখানা গতকাল একদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। সেগুলো আজ চালু হয়েছে। যেসব কারখানা এখনো চালু হয়নি তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সরকার।

তিনি বলেন, কোনো শিল্পকারখানা বন্ধ হোক, সরকার তা চায় না। কারণ এর সঙ্গে শ্রমিকদের রুটি-রুজির বিষয় জড়িত। শিল্প মালিকদের শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
মজুরি বোর্ড গতকাল গঠিত হয়েছে। আজই বোর্ডের প্রথম সভা হতে পারে অথবা অল্প সময়ের মধ্যে আলোচনা শুরু হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ ও ঘোষণার বিষয়ে সরকার আশাবাদী। আগামী ডিসেম্বর মাসে বর্তমান মজুরি কাঠামোর তিন বছর পূর্ণ হবে যোগ করেন মন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ, জীবনমানের উন্নয়ন এবং তাদের সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সহানুভূতির সঙ্গে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছেন। মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মজুরি নির্ধারণ করা হবে।
গত ১৮ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে শ্রম মন্ত্রণালয়কে সম্ভাব্য অস্থিরতা নিয়ে চিঠি দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রস্তুতি ছিল। শ্রমমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছেন। শ্রমিক প্রতিনিধিদের নাম আগে পাওয়া গেলে আরও আগেই মজুরি বোর্ড গঠন করা সম্ভব হতো।
ডিসেম্বর ঘিরে মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডিসেম্বর বিজয়ের মাস। এ মাসে বিজয় দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি থাকবে। কোনো পলাতক আসামি ডিসেম্বর বা জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে কোনো কর্মকাণ্ড চালালে সে বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা উচিত।
মন্ত্রী আরও বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি ও মাফিয়া চক্রের সদস্যরা যেখানেই থাকুক তাদের দেশে ফিরে আসা উচিত। দেশে ফিরলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে এবং আদালতের রায় অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে হাইপ তৈরি করে পলাতক নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা সফল হবে না।
শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শিল্প মালিকদের কারখানা চালু রাখতে হবে এবং শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যা সমাধান করতে হবে। তবে এ পরিস্থিতির কারণে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হলে সরকার তা কঠোর হস্তে দমন করবে।