বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে একযোগে সারাদেশে ফল প্রকাশের ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী -ছবি : সংগৃহীত
এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা আগামী এক মাসের মধ্যে আয়োজনের পরিকল্পনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে যেন অতিরিক্ত একটি বছর হারিয়ে না যায়, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবারের পরীক্ষায় এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে ফেল করেছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন। সব মিলিয়ে এক ও দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫। অন্যদিকে, এবার মোট অকৃতকার্য হয়েছে ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৪১৩ জন।
তিনি বলেন, এক বা দুই বিষয়ে যারা পাস করতে পারেনি, তাদের এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে। এতে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে অযথা সময় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কমবে।
পরীক্ষার সময়সূচি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সাত কিংবা ১৫ দিনের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হলেও শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ থাকবে না। আবার বেশি দেরি হলে বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। তাই প্রস্তুতির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সময় নির্ধারণ করা হবে। তবে কোনোভাবেই এক মাসের বেশি সময় দেওয়া হবে না।
খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন আগামী ১ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি। আবেদন শেষে খাতা যাচাইয়ের কার্যক্রম শুরু হবে। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রায় ১৩ লাখ খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন জমা পড়েছিল। যাচাই শেষে ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর গ্রেডে পরিবর্তন আসে। এর মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী অকৃতকার্য থেকে উত্তীর্ণ হয় এবং নতুন করে ৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ-৫ অর্জন করে।
পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশে স্বচ্ছতা আনতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। মূল্যায়নে গুরুতর ভুল বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী চান প্রত্যেক শিক্ষার্থী তার প্রকৃত মেধা ও অর্জন অনুযায়ী মূল্যায়িত হোক। কেউ যেন যথাযথ মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত না হয়। এ কারণে ফল প্রকাশের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
এবারের ফলাফলে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবিষয়ক জ্ঞান ও শেখার ক্ষেত্রে বেশ কিছু দুর্বলতা উঠে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। এসব ঘাটতি শনাক্ত করে সমাধানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলো কাজ করবে। পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে নেমে এসেছে। গত বছর এ হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। পাসের হার কমে যাওয়াকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন না জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পদ্ধতি, অভিভাবকদের ভূমিকা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে সমস্যার কারণ বের করতে হবে।
কোন বিষয়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ইংরেজিতে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে ১৩ হাজার ৮৪৯ জন ফেল করেছে। ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা কাটাতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শূন্য পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টিও মন্ত্রণালয়ের নজরে রয়েছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। এসব প্রতিষ্ঠান পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে আশপাশের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করার পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্তে শিক্ষকদের চাকরির কোনো ঝুঁকি তৈরি হবে না বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি, বাসায় পড়াশোনার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ও মাদক থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই শিক্ষা খাতকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এ খাতে বাজেট বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে।
আগের বছরগুলোতে পাসের হার বেশি থাকার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত হবে কি না, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, খাতা মূল্যায়নের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর আগের মূল্যায়নে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা আরও স্পষ্ট হবে। পাশাপাশি পরীক্ষক ও শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে জিপিএর শর্ত শিথিল করার বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে নিজস্ব মানদণ্ড ও যোগ্যতার শর্ত নির্ধারণের অধিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রয়েছে। তবে যোগ্যতা অনুযায়ী সবার ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ ৪০ হাজার আসন রয়েছে। বিপরীতে এবার পাস করেছে প্রায় ১২ লাখ শিক্ষার্থী।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও খাতা মূল্যায়নে অনিয়মের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে এসব বিষয় তদন্তের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পরীক্ষকদের খাতা মূল্যায়নে বেশ কিছু দুর্বলতা রয়েছে, পুনর্নিরীক্ষণে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হওয়া যার একটি উদাহরণ।
তিনি আরও জানান, কিছু ক্ষেত্রে এমসিকিউ প্রশ্নপত্র পরিবর্তন এবং সংঘবদ্ধভাবে ফলাফল বদলে দেওয়ার চেষ্টার তথ্য পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে কয়েকটি ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। বাকি অভিযোগগুলোও যাচাই করা হবে। পরীক্ষা পদ্ধতি, শিক্ষা বোর্ড, পরীক্ষক নিয়োগ ও প্রশ্নপত্র প্রণয়নসহ বিভিন্ন পর্যায়ে দীর্ঘদিনের যেসব দুর্বলতা রয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।