বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করে ‘জনগণের পুলিশ’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ভয়ভীতি ও পক্ষপাতিত্বের ঊর্ধ্বে উঠে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য আইনি সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির ঐতিহাসিক প্যারেড গ্রাউন্ডে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট এবং ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (২০০৬ ব্যাচ)-এর ছয় মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক। মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সেবা দেওয়ার মধ্য দিয়েই বাহিনীকে আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গায় পৌঁছাতে হবে। মানুষের জন্য কাজ করে তাদের হৃদয় জয় করতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্বল হয়ে পড়া পুলিশ বাহিনীকে পুনর্গঠন করে দক্ষ, আধুনিক, মানবিক ও জনসেবামুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন, জনবল বৃদ্ধি, যানবাহন সংগ্রহ, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের অপেক্ষা, আইনি প্রক্রিয়া ও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এ ব্যাচের সদস্যরা দেশসেবার পেশায় যোগ দিয়েছেন। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে কোনো ধরনের বৈষম্য কিংবা অন্যায় আচরণ না করার নির্দেশ দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের পোশাক ও দায়িত্বকে কেবল চাকরি হিসেবে দেখলে চলবে না। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার অঙ্গীকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বর্তমান সময়ে অপরাধের ধরন বদলে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত অপরাধের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ, অনলাইন জালিয়াতি, আর্থিক প্রতারণা, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, মানব পাচার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
এসব অপরাধ মোকাবিলায় শুধু প্রচলিত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর না করে আধুনিক প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক তদন্ত, তথ্য বিশ্লেষণ ও ডিজিটাল ফরেনসিকের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দুর্ব্যবহার, পক্ষপাতিত্ব কিংবা পেশিশক্তির পরিবর্তে পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, সংবিধান ও প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে নিরপরাধ মানুষের অধিকারও সুরক্ষিত রাখতে হবে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ পুলিশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটে কাজের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দায়িত্বে অবহেলা, অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও শৃঙ্খলাভঙ্গের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধান কার্যকর থাকবে।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে নবীন কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্টের ৮৪ জন এবং ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (২০০৬ ব্যাচ)-এর ১৬২ জনসহ মোট ২৪৬ জন প্রশিক্ষণার্থী মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।

কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন এএসপি প্রবেশনার মো. মাহবুব হোসেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। পরে বিভিন্ন বিষয়ে কৃতিত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন তিনি।
২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্টদের মধ্যে সেরা সার্জেন্ট নির্বাচিত হন মো. ওমর ফারুক, সেরা একাডেমিক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে সেরা সাইফুল ইসলাম এবং সেরা শুটার হন মো. আসাদুজ্জামান।
অন্যদিকে, ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর ব্যাচে সেরা ক্যাডেট হয়েছেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, সেরা একাডেমিক মো. বোরহানুল ইসলাম, মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে সেরা দেওয়ান গোলাম রসুল এবং সেরা শুটার মো. কামাল গনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্যরা, পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল মো. মাইনুল হাসান বিপিএম, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের দায়িত্বে থাকা মো. রেজাউল আলম সরকার এবং রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ। এ ছাড়া সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশিক্ষণার্থীদের অভিভাবক, আমন্ত্রিত অতিথি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।