বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

সিএমএম কনফারেন্স রুমে দুটি ই-পারিবারিক আপিল আদালতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান -ছবি: সংগৃহীত
দেশের বিচারব্যবস্থাকে মানুষের আস্থা, বিশ্বাস ও ভরসার জায়গায় পরিণত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের মামলাজট কমানো, বিচারকদের ওপর চাপ হ্রাস এবং বিচারিক কার্যক্রমে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকায় ই-পারিবারিক আপিল আদালতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে তিনি জানান, দেশে বর্তমানে ৪৬ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বিপুলসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি করতে গিয়ে বিচারকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। এ চাপ কমাতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে।
আদালতের কার্যক্রম পরিচালনায় দায়িত্বশীলতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো কোনো বিচারিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কম সময় আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। কেউ যদি সকাল ১১টায় আদালতে এসে দুপুর দেড়টা বা ২টার মধ্যে কাজ শেষ করে চলে যান এমন ঘটনা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের প্রকৃত আস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হলে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল প্রযুক্তি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে। এসব ক্ষেত্রে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি তরুণ বিচারকদের সক্ষমতার ওপর আস্থা প্রকাশ করে বলেন, তরুণ বিচারকেরা প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবেন এবং এআই-সংশ্লিষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে তিনি আশাবাদী।
বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও সময়োপযোগী করতে ইতোমধ্যে ই-বেইল বন্ড চালু করা হয়েছে বলে জানান আইনমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ব্যবস্থার সুফল জনগণ পেতে শুরু করেছেন।
এ ছাড়া ডিজিটাল পদ্ধতিতে সাক্ষ্য গ্রহণ ও হাজিরা দেওয়ার সুযোগ আরও বিস্তৃত করার বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কিছু আসামির ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে ডিজিটাল হাজিরার ব্যবস্থা চালু হয়েছে বলে জানান তিনি।
এই পদ্ধতিতে নির্ধারিত দিনে কারাগারে থাকা আসামির উপস্থিতি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় এবং আদালত ডিজিটাল পদ্ধতিতে হাজিরা যাচাই করেন।
মামলাজট নিরসন, বিচারকদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিচারিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমানোই সরকারের লক্ষ্য বলে অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে উঠে এসেছে। তবে এসব উদ্যোগের বাস্তব সুফল কত দ্রুত সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের কাছে পৌঁছায়, তা নির্ভর করবে কার্যকর বাস্তবায়ন ও নিয়মিত তদারকির ওপর।