বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় আওয়ামী লীগের আরও তিন নেতাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চার আসামির অর্ধেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের নেতৃত্বে ছিলেন চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী। অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মামলার অপর তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। তাদের মধ্যে সদর উদ্দিন খান জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং আতাউর রহমান আতা কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান।
মামলার বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চার আসামিই বর্তমানে পলাতক। তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনের সময় কুষ্টিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আসামিদের বক্তব্য, নির্দেশনা ও সাংগঠনিক ভূমিকার সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে দাবি করে রাষ্ট্রপক্ষ। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলে।
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে দেওয়া এক বক্তব্যে আজগর আলী বলেছিলেন, আন্দোলন যেকোনোভাবে দমনের নির্দেশনা ছিল দলীয় নেতা মাহবুব উল আলম হানিফের। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্কে ওই বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রসিকিউশনের দাবি ছিল, আন্দোলন দমনে রাজনৈতিক নেতৃত্বের বক্তব্য ও নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা কুষ্টিয়ায় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত রায়ের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, আন্দোলন দমনে ছাত্রলীগকে ব্যবহারসংক্রান্ত বক্তব্যের সময় উপস্থিত থেকে সমর্থন দেওয়া, ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে ছাত্র-জনতাকে হত্যার নির্দেশনা ও ষড়যন্ত্রে অংশ নেওয়া এবং ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা।
রাষ্ট্রপক্ষ জানান, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে হানিফ আন্দোলন দমনে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখেছিলেন এবং অধীনস্তদের মাধ্যমে তা কার্যকর করার ক্ষেত্রে তার সংশ্লিষ্টতা ছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে চার আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছিল প্রসিকিউশন।
গত ৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। এ সময় চার আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করা হয়। পরে ৭ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক এবং পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল।
এরপর গত ২৭ অক্টোবর রায় ঘোষণার জন্য ২৯ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত দিনেই ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর চার আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। বিচারপ্রক্রিয়ায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

এর আগে একপর্যায়ে ১০ জুন যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল। পরে রাষ্ট্রপক্ষ নতুন কিছু তথ্যপ্রমাণ আদালতে দাখিল করায় ট্রাইব্যুনাল পুনরায় উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শোনেন। সেই প্রক্রিয়া শেষে মামলাটি চূড়ান্ত রায়ের পর্যায়ে পৌঁছায়।
মৃত্যুদণ্ড ও আমৃত্যু কারাদণ্ডের পাশাপাশি চার আসামির অর্ধেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। ফলে মামলার রায়ে কারাদণ্ডের পাশাপাশি সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।