বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি নৃশংসভাবে খুন হওয়ার ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের কোনো মোটিভ বা জড়িত খুনিদের শনাক্ত করতে পারেনি তদন্ত সংস্থা। তিনটি সংস্থা ঘুরে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত টাস্কফোর্স টানা দুই বছর তদন্ত চালিয়েও চাঞ্চল্যকর এই দ্বৈত হত্যাকাণ্ডের কোনো সুনির্দিষ্ট কিনারা করতে পারেনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিচারপতি সিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চে ২৭ পৃষ্ঠার অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করে টাস্কফোর্স। তদন্ত কাজ পুরোপুরি শেষ করতে এক বছর সময় আবেদন করা হলে আদালত ছয় মাস সময় মঞ্জুর করে আগামী ২৯ এপ্রিল পরবর্তী প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেন। একই সঙ্গে ওই দিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহাকে আদালতে সশরীরে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত আগস্টে তানভীর হাসান জোহা দাবি করেছিলেন, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মে. জে. জিয়াউল আহসানের এক সহকারীকে জিজ্ঞাসাবাদে এই হত্যাকাণ্ডে জিয়াউল আহসান ও এক গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। এ সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ চেয়ে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
আদালতে প্রতিবেদনের অংশবিশেষ তুলে ধরেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। বাদীপক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী শিশির মনির। অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ব্যাপারে সরকারের কোনো কিছু লুকানোর নেই এবং কাউকে ছাড় দেওয়ারও সুযোগ নেই। তবে তৎকালীন সরকারের আমলে তদন্তের দায়িত্বে থাকা শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনেককেই বর্তমানে খুঁজে না পাওয়ায় তদন্তের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
অগ্রগতি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড কোনো পারিবারিক বা দাম্পত্য কলহের ফল ছিল না এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে দুজনকেই হত্যা করা হয়েছে। আলামত ও ক্ষতের ধরন বিশ্লেষণ করে টাস্কফোর্স জানায়, খুনিরা হত্যাকাণ্ড সংঘটনে কোনো তাড়াহুড়ো করেনি। পাশাপাশি আঘাতের ধরন দেখে প্রতীয়মান হয় খুনিরা পেশাদার ছিল না; কারণ তাদের শরীরের কোনো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে তাৎক্ষণিক মৃত্যু ঘটানোর মতো আঘাত ছিল না। শরীরে অসংখ্য ক্ষতের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁদের মৃত্যু হয় এবং মৃত্যুর আগে দীর্ঘ সময় তাঁরা ক্ষত নিয়ে জীবিত ছিলেন। এ ছাড়া কবর থেকে তুলে আনা ভিসেরা পরীক্ষায় কোনো ধরনের চেতনানাশক পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
টাস্কফোর্স জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সময় খোয়া যাওয়া মুঠোফোন ও দুটি ল্যাপটপ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তৎকালীন পুলিশ মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার, ডিবির তৎকালীন প্রধান মনিরুল ইসলাম, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক মোখলেসুর রহমান এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে একজন সাংবাদিকের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা রক্তমাখা ছুরি, বঁটি, কাপড়সহ বিভিন্ন আলামত এবং সন্দেহভাজন ২৫ ব্যক্তির ডিএনএ নমুনা যুক্তরাষ্ট্র ও নেদারল্যান্ডসের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরীক্ষার ফলাফলে ঘটনাস্থলে চার ব্যক্তির ডিএনএ পাওয়া যায়—যার মধ্যে তিনজন পুরুষ ও একজন নারী। এর মধ্যে সাগর ও রুনির ডিএনএ বাদে বাকি দুই অজ্ঞাত পুরুষের ডিএনএর সঙ্গে সন্দেহভাজন ২৫ জনের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া জিয়াউল আহসানের বরিশালের বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৩০০টি সিডির মধ্যে ৯০টি পর্যালোচনা শেষ হয়েছে, বাকি ২১০টি সিডির তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ফ্ল্যাটে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। শেরেবাংলা নগর থানা চার দিন এবং গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ৬৩ দিন তদন্তের পর মামলাটির তদন্তভার যায় র্যাবের কাছে। দীর্ঘ সাড়ে ১২ বছর তদন্তের পর ২০২৪ সালের শেষভাগে হাইকোর্টের নির্দেশে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে গঠিত টাস্কফোর্সের কাছে তদন্তের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়।