বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্য পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে সরকার। একই সঙ্গে সরকারি দল বিএনপি জানিয়েছে, এই বক্তব্য বর্তমান সরকারের অবস্থানকে চরমভাবে বিব্রত করেছে। তবে বিতর্কিত এই বক্তব্যের পক্ষে আনুষ্ঠানিক সাফাই গেয়ে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন দাবি করেছে, অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের আইনি সক্ষমতা সুদৃঢ় করার লক্ষ্যেই এটি একটি সময়োপযোগী আহ্বান ছিল।
গত সোমবার পুরান ঢাকার চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ করা হবে। তিনি মন্তব্য করেন, পুলিশ আইন প্রয়োগ করলে ফ্যাসিস্ট বলা হয়, আবার নিষ্ক্রিয় থাকলে দুর্বল ভাবা হয়; ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে স্বাধীন কাজের পরিবেশ দিতে হবে।
আইজিপির এই বক্তব্য জনসমক্ষে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। জামায়াত তাঁকে ক্ষমা চাইতে আহ্বান জানায় এবং এনসিপি তাঁর পদত্যাগ দাবি করে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে কোনোভাবেই বিশ্বাসী নয় এবং ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রেখেছে। বক্তব্যটি অসতর্কতাবশত দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশপ্রধানের এমন বক্তব্য মোটেও ঠিক বা সমীচীন হয়নি। আইনের শাসন ও মানবাধিকার সমুন্নত রেখে বৈধ পথেই অপরাধ দমন করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
এদিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসা দলের সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় পুলিশপ্রধানের মুখ থেকে এমন বক্তব্য অপ্রত্যাশিত ও বিব্রতকর। তিনি বলেন, প্রচলিত আইনেই অপরাধ দমন সম্ভব; ক্রসফায়ার বা বেআইনি কোনো পন্থা অপরাধ নিয়ন্ত্রণের টেকসই সমাধান হতে পারে না।
তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, আইজিপি তাঁর বক্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন তাঁর বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। তবে তাঁর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে প্রধানমন্ত্রী জাপান সফর শেষে দেশে ফেরার পর তা বিবেচনা করা হবে।
বিপরীতে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে আইজিপির বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নিয়ে জানিয়েছে, পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিদ্যমান আইনের দৃঢ় ও আপসহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করাই ছিল বক্তব্যের মূল সুর। সংগঠনটি সতর্ক করে জানায়, পুলিশের আইনসম্মত কঠোরতাকে নেতিবাচক চোখে দেখা এবং দায়িত্বে অনীহাকে দুর্বলতা বিবেচনা করা মাঠপর্যায়ের সদস্যদের দ্বিধাগ্রস্ত করে তোলে, যা প্রকারান্তরে অপরাধীদের উৎসাহিত করে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী অস্থির পরিস্থিতি ও ‘মব ভায়োলেন্স’-এর বাস্তবতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে গিয়ে সদস্যদের নানামুখী প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।