বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

এ আই দিয়ে তৈরি
সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, ভাঙাচোরা সড়ক আর চলাচলের অনুপযোগী ফুটপাত রাজধানীর এসব পুরোনো সমস্যার সমাধানে ৭১৪ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় সড়ক, নর্দমা ও ফুটপাত সংস্কার এবং উন্নয়নের কাজ করা হবে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পে ২৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়ক, ৪৯ কিলোমিটার নর্দমা এবং ৪৮ দশমিক ৭ কিলোমিটার ফুটপাত উন্নয়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সড়কের মাঝখানে থাকা ৫ দশমিক ১৮ কিলোমিটার বিভাজকও সংস্কার করা হবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এসব কাজ শেষ হলে দক্ষিণ ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থা ও পানি নিষ্কাশনে উন্নতি হবে, পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলও সহজ হবে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন প্রধান সড়কগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাতের সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি আগামী ২৫ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। অনুমোদন পেলে ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ৭১৪ কোটি ২৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা এবং ডিএসসিসির নিজস্ব তহবিল থেকে ২১৪ কোটি ২৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা জোগান দেওয়ার কথা রয়েছে। সরকারি অর্থায়নের মধ্যে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ঋণ এবং ২০০ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে পাওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রকল্পের ব্যয়ের হিসাব বলছে, সবচেয়ে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে নর্দমা উন্নয়নে। এ খাতে ৪৯৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। অন্যদিকে সড়ক উন্নয়নে ১৪১ কোটি ২৭ লাখ, ফুটপাত উন্নয়নে ৪৬ কোটি ৬ লাখ এবং সড়ক বিভাজক সংস্কারে ২ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অর্থাৎ প্রকল্পের বড় অংশজুড়েই থাকছে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন। তবে শুধু নর্দমা নির্মাণ বা সংস্কার করলেই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হবে না। পানি দ্রুত সরানোর পাশাপাশি নিষ্কাশনব্যবস্থার সামগ্রিক সক্ষমতা, পানিপ্রবাহ এবং পানি নির্গমনের পথ সচল রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
ডিএসসিসির অঞ্চল ১ থেকে ৫-এর আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ধানমন্ডি, নিউ মার্কেট, শাহবাগ, রমনা, পল্টন, শাহজাহানপুর, লালবাগ, বংশাল, যাত্রাবাড়ী ও মতিঝিল থানা এলাকার সড়ক, নর্দমা এবং ফুটপাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
রাজধানীর এসব এলাকায় জনসংখ্যা ও যানবাহনের চাপ বাড়ার পাশাপাশি সড়ক অবকাঠামোর ওপর চাপও বেড়েছে। সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে কোথাও কোথাও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আবার কার্যকর নর্দমার অভাবে জমে থাকছে বৃষ্টির পানি। ফুটপাতের বেহাল অবস্থায় পথচারীদেরও নিরাপদে চলাচল করতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
প্রস্তাবিত উন্নয়নকাজ বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে যান চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পথচারীদের জন্যও উন্নত পরিবেশ তৈরির সুযোগ রয়েছে। তবে প্রকল্পের সুফল কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে নির্মাণকাজের মান, নিয়মিত তদারকি এবং পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণের ওপর।
পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ প্রকল্পটি মূল্যায়ন করেছে। গত ২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় এটি একনেকে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়।
পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য ড. নেয়ামত উল্ল্যা ভূঁইয়া জানান, প্রকল্পের ব্যয় ৫০ কোটি টাকার বেশি হওয়ায় সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন নির্দেশিকা-২০২২ অনুসারে এটি একনেকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে ডিএসসিসির এই প্রকল্পে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে সড়ক, নর্দমা ও ফুটপাতের উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এখন প্রকল্পটির অনুমোদন, নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করাই হবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।