বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর খিলক্ষেতে পুলিশ অফিসার হাউজিং সোসাইটিতে অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া একটি ফ্ল্যাটে নিয়মিত ডিজে পার্টি আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে। উচ্চ শব্দে গান-বাজনা, নাচ ও মাদক সেবনের অভিযোগে এসব আয়োজন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরক্ত ছিলেন আবাসিক এলাকার অন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, প্রায় এক বছর ধরে ফ্ল্যাটটিতে প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২ দিন পার্টির আয়োজন করা হতো। এসব আয়োজনে উচ্চ শব্দের কারণে আশপাশের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হতো। এমনকি হাউজিং সোসাইটির ভেতরে থাকা একটি মসজিদের আশপাশেও গান-বাজনার শব্দ শোনা যেত বলে জানিয়েছে অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সূত্র।

গত সোমবার রাতে ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে ৮৫ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে আটক ব্যক্তিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানিয়েছে, অভিযানে মদ, ইয়াবা, মাদক সেবনের সরঞ্জাম এবং অল্প পরিমাণ গাঁজাসদৃশ পদার্থ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার মিন্টো রোডে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার ইলিয়াস কবির অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন। পরে তাঁকেও অভিযানে যুক্ত করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, Airbnb ও Travela নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এসব আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের নিবন্ধন করা হতো। ফ্ল্যাটটির মূল হোস্ট ছিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির এবং কো-হোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন মাহবুবুল আলম।
মাহবুবুল আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ডিসি ইলিয়াস কবির জানান, ২০২৫ সাল থেকে ফ্ল্যাটটিতে এ ধরনের আয়োজন হয়ে আসছিল। প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২টি পার্টি অনুষ্ঠিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে প্রায় ২২টি গাড়ি ছিল। সেখানে ২৬ জন তরুণীসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ব্যাংকারদের পাওয়া যায় বলে জানান ইলিয়াস কবির। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পার্টিতে সিসা সেবন, উচ্চ শব্দে গান ও নাচ চলছিল।
পার্টিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের বিষয়ে ডিসি জানান, ১০ জনের কাছ থেকে জনপ্রতি ১৮ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আরও প্রায় ৯০ জনের কাছ থেকে জনপ্রতি ৬০০ টাকা নেওয়ার হিসাবও উঠে এসেছে।
তবে এসব আয়োজন থেকে মাসে মোট কত টাকা আয় হতো, কারা সেই অর্থ পেতেন এবং ফ্ল্যাটের মালিকের সঙ্গে অর্থের লেনদেন কীভাবে হতো, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
অভিযানে উদ্ধার করা সামগ্রীর তালিকায় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদের বোতল, একটি ইয়াবা, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম এবং অল্প পরিমাণ গাঁজাসদৃশ পদার্থের উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া কনডম উদ্ধারের কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা।
অন্যদিকে ডিবি জানিয়েছে, অভিযানে মদ, সিনথেটিক মাদক, সিসা ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিসি ইলিয়াস কবিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৭ জন তরুণকে এক মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
অন্যদিকে, ২৬ জন তরুণীকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে তাঁদের আরও তিন দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
তবে আটকের সংখ্যা নিয়ে তথ্যে অসংগতি রয়েছে। পুলিশ প্রথমে ৮৫ জনকে আটকের কথা জানালেও সাজাপ্রাপ্তদের উল্লেখিত সংখ্যা ৮৩। বাকি দুজনের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযানে অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এসব পার্টিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের সন্তানদের যাতায়াত ছিল। তাঁদের কয়েকজনকে তদবিরের মাধ্যমে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এ ছাড়া চট্টগ্রামে কর্মরত সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন পদমর্যাদার একজন সদস্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ফ্ল্যাটটির মালিকানা ও পার্টি থেকে আয়ের ভাগ পাওয়া নিয়ে নিজের বক্তব্য দিয়েছেন অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির। তাঁর দাবি, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের নিয়ম অনুযায়ী বাড়ির মালিক হিসেবে তিনি মূল হোস্ট হলেও পার্টির আয়োজনের দায়িত্বে ছিলেন না।

জহির জানান, ব্যবস্থাপক হিসেবে মাহবুবুল আলমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। নিয়মকানুন মেনে চলতে, কোনো ব্যত্যয় ঘটলে তাঁকে জানাতে এবং প্রয়োজনে অনুষ্ঠান বাতিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য, মাহবুবুল আলম তাঁকে অনেক তথ্য জানাতেন না।
পার্টি থেকে আয়ের ৭০ শতাংশ পাওয়ার বিষয়ে জহির বলেন, ওই অর্থ ছিল ফ্ল্যাটের ভাড়া। বাকি অর্থের একটি অংশ মাহবুবুল আলম এবং হাউসকিপিংয়ের কর্মী ও মালি পেতেন বলে তিনি দাবি করেন।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ সদর দপ্তর আব্দুল্লাহ আল জহিরকে ক্লোজ করার নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া শাখার এআইজি কামারুম মুনিরা জানিয়েছেন, ডিবি বিষয়টি তদন্ত করছে। তদন্তে জহিরের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এ বিষয়ে ডিসি ইলিয়াস কবির জানান, জহিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কি না, তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।তিনি বলেন, এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। পরবর্তী পদক্ষেপ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারে নেওয়া হবে।