বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ -ছবি : সংগৃহীত
শারদীয় দুর্গাপূজায় দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সমন্বিত সক্ষমতার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির আয়োজনে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারানো আনসার-ভিডিপি সদস্যদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
মহাপরিচালক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় আয়োজনগুলোতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও এ সমন্বিত উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা এবং দায়িত্ববোধের উন্নতি নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। ক্ষমতাকেন্দ্রিক মানসিকতার পরিবর্তে জনসেবা, জবাবদিহি ও জনসম্পৃক্ততাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ ধারা আরও শক্তিশালী করতে হবে।
অনুষ্ঠানে দুর্গাপূজার দায়িত্ব পালনকালে মৃত্যুবরণকারী কুড়িগ্রামের টিডিপি সদস্য লিমন শেখ (২২), গাইবান্ধার ভিডিপি সদস্যা পারভীন (৪৬) এবং টাঙ্গাইলের ফিরোজ খানের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
তাদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন, দায়িত্ব পালনে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের নিষ্ঠা, সাহসিকতা ও কর্তব্যপরায়ণতা বাহিনীর পেশাদারিত্বের পরিচয় বহন করে।

এ সময় মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির পক্ষ থেকে মহাপরিচালককে ফুল দিয়ে বরণ ও উত্তরীয় পরিয়ে স্বাগত জানানো হয়। আনসার বাহিনীর পক্ষ থেকেও পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের ফুল ও প্রীতি উপহার দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। পূজা কমিটির নেতারা সারাদেশের মণ্ডপে দায়িত্ব পালনকারী আনসার-ভিডিপি সদস্যদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
মহাপরিচালক বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় আয়োজন ও জননিরাপত্তামূলক কার্যক্রমে আনসার-ভিডিপি সদস্যরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত সাংগঠনিক কাঠামো এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বাহিনীকে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রেখেছে।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় দায়িত্ব বণ্টন, তথ্য আদান-প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাহিনীর সক্ষমতা কাজে লাগানো হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপস’ দায়িত্ব ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণে ভূমিকা রাখছে বলে জানান তিনি।
বাহিনীর চারটি সাংগঠনিক স্তরের দায়িত্ব ও কার্যক্রম আলাদা হলেও জাতীয় নিরাপত্তা, জনসেবা এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সবার সম্মিলিত সক্ষমতা জরুরি বলেও উল্লেখ করেন মহাপরিচালক।
আনসার সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবী ভিডিপি সদস্যদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মহাপরিচালক বলেন, উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত সদস্যদের জীবনমান উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে ‘সঞ্জীবন প্রকল্প’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ প্রকল্পের মাধ্যমে সদস্যদের জীবনমান উন্নত হলে বাহিনীর সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততা, দায়িত্ববোধ ও কর্মদক্ষতা বাড়বে। এতে জাতীয় নির্বাচনসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সমন্বিত অংশগ্রহণ আরও কার্যকর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দেশব্যাপী দুর্গোৎসবকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের ঐতিহ্যের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন মহাপরিচালক। তিনি বলেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করাও জরুরি।
যেসব স্থানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হয়েছে সেখানে দায়িত্বে থাকা আনসার-ভিডিপি সদস্যরা দ্রুত তৎপর হয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভূমিকা রেখেছেন বলে জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন মহাপরিচালক। জনসমাগম ও চলাচল বাড়ার কারণে নারী, শিশু ও বয়স্কদের নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পূজারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের শৃঙ্খলাপূর্ণ ও মানবিক আচরণের নির্দেশনা দেন।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বয়, পেশাদারিত্ব ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করবে বাহিনী।