বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে আগত সকল দর্শনার্থী এবং অতিথিদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন -ছবি: সংগৃহীত
সব ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হতে পারে কিন্তু নাগরিক অধিকার সবার সমান। রাষ্ট্রের কাছে প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে বঙ্গভবনে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। অনুষ্ঠানে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। সংবিধান প্রত্যেককে সমান অধিকার, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে। এসব অধিকার বাস্তবে নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ, সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক সংঘাত চলার প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারা দেশের বড় অর্জন। এই সম্প্রীতিই জাতির শক্তি ও অস্তিত্বের ভিত্তি। যেকোনো পরিস্থিতিতে তা অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, গুজব, অপপ্রচার ও ধর্মীয় উগ্রতাকে কাজে লাগিয়ে সমাজে বিভেদ তৈরির চেষ্টা হতে পারে। এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও আপসহীন থাকতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ সবার দেশ। জাতীয় ঐক্য ও দেশের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে কোনো অপশক্তিকে বিভেদ তৈরির সুযোগ দেওয়া যাবে না। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ ভূখণ্ডে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ দীর্ঘকাল ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে বসবাস করে আসছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধসহ গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ জাতীয় ঐক্যের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

বিজয়া দশমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, উৎসবটির অন্তর্নিহিত শিক্ষা হলো অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়। ধর্ম, বর্ণ কিংবা গোষ্ঠীগত পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক বৈষম্য বা নিপীড়নের শিকার হবেন এটি গ্রহণযোগ্য নয়।
সব ধর্মের মানুষ যাতে নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে ধর্মীয় আচার পালন করতে পারেন তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান রাষ্ট্রপতি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গভবনের ক্রিডেনশিয়াল হলে রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতারা।
পরে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে আসা অতিথি ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।