বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান -ছবি : সংগৃহীত
প্রবাসীদের দেশে থাকা সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ এবং পরিবারের কাছে পাঠানো অর্থ ফেরত চাওয়াসংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিভাগীয় সদর দপ্তরে বিশেষায়িত ট্রাইব্যুনাল গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার। এ আদালত প্রবাসীদের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কাজ করবে। বর্তমানে প্রস্তাবটি খসড়া পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘সোনার মানুষ সম্মিলন-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিদেশ থেকে দেশে অর্থ পাঠিয়ে সম্পত্তি কেনা কিংবা পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠানো টাকা ফেরত চাওয়ার মতো ঘটনায় অনেক প্রবাসীকে বছরের পর বছর আইনি জটিলতা ও হয়রানির মুখে পড়তে হয়। তাদের এই দুর্ভোগ কমাতে বিশেষায়িত ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, দেশে আইনি সমস্যায় পড়া প্রবাসী শ্রমিকেরা লিগ্যাল এইড অধিদপ্তরের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা আইনি সহায়তা পাবেন। এ লক্ষ্যে একটি হটলাইন চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি যুগ্ম জেলা জজ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও লিগ্যাল এইড অফিসারদেরও এ কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছে।
প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান তুলে ধরে আসাদুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে অভিবাসী শ্রমিকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তৈরি পোশাক, কৃষি, চিংড়ি, পাট ও চা রপ্তানির পাশাপাশি শ্রমশক্তি রপ্তানি দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তিতে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে কায়িক শ্রমের পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক অভিবাসনের ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হচ্ছে।
সম্প্রতি দুবাই সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সেখানে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জীবনযাপন অত্যন্ত কষ্টকর। দৈনন্দিন কাজের জন্য দীর্ঘ প্রস্তুতি, যাতায়াতে সময় ব্যয় এবং রাত পর্যন্ত পরিশ্রম করার পরও অনেক বাংলাদেশি শ্রমিক অন্য দেশের শ্রমিকদের তুলনায় কম মজুরি পান। এ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য তিনি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রবাসীদের ভোগান্তির পেছনে অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সির ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী। তিনি জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভিসা বাতিলের ঘটনা ঘটছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ৫ হাজার ভিসা বাতিল করা হয়েছে এবং আরও কিছু ভিসা বাতিলের অপেক্ষায় রয়েছে।
এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি ভুয়া সনদ ও অস্তিত্বহীন নথি জমা দিচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে নথির সত্যতা যাচাই সহজ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে রামরুর ৩০ বছরের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে সংগঠনটির সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি অবগত নন। শ্রমিকদের নামে অর্থ সংগ্রহ করে তহবিল তছরুপ কিংবা রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে কাজ করার অভিযোগও তিনি উল্লেখ করেননি।
ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা তুলে ধরে আসাদুজ্জামান বলেন, রামরুর ৩০ বছরের পথচলা আগামী ১০০ বছরেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা করেন। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন, যেখানে প্রবাসী শ্রমিকেরা দেশে ফিরে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশও অন্যান্য দেশ থেকে শ্রমিক গ্রহণ করবে।