বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

রাজনৈতিক কর্মসূচি, সংঘর্ষ, হামলার অভিযোগ থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও—বিভিন্ন ঘটনায় বারবার আলোচনায় এসেছেন আ ন ম আয়াস। এবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি মুছে ফেলার চেষ্টার অভিযোগে আটক হয়েছেন তিনি। তার কর্মকাণ্ড ঘিরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম নামের একটি সংগঠনের সদস্যসচিব আয়াস একসময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সদস্যসচিব ছিলেন। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন ঘটনায় তার নাম সামনে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংঘর্ষ, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে মারধরের ঘটনা, ময়মনসিংহে হামলার শিকার হওয়া এবং ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের বাড়ির সামনে ধারণ করা একটি ভিডিও নিয়ে বিতর্ক।
গত ৫ অক্টোবর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর দেয়াল সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ও সত্যজিৎ রায়সহ শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ বিশিষ্ট ব্যক্তির প্রতিকৃতি আঁকা হয়।
এর কয়েক দিনের মাথায় রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক শুরু হয়। কিছু ব্যক্তি প্রতিকৃতিতে আপত্তি তুলে ভারতীয় সাংস্কৃতিক প্রভাব ও আধিপত্যের প্রশ্ন সামনে আনেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আয়াসসহ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রাফিতি মুছে ফেলার চেষ্টার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে নেওয়ার কথা জানায় পুলিশ।
এর আগে ৪ আগস্ট জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নতুন ধারা বাংলাদেশ ও রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আলোচনায় আসেন আয়াস।
জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও শহীদদের নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ তুলে নতুন ধারা বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানাকে চড় মারার অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই সংগঠনের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আয়াসকে মারধরের শিকার হতে দেখা যায়। অন্য একটি ভিডিওতে তাকেও পাল্টা আঘাত করতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আয়াসের ওপর হামলার অভিযোগে করা মামলায় নতুন ধারা বাংলাদেশের কয়েকজন নেতাকে আসামি করা হয়।
গত ১৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের ভেঙে দেওয়া বাড়ির সামনে আয়াসের নেতৃত্বে একদল লোক অবস্থান নেন। সেদিন ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া, মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ ও শিঙাড়া বিতরণের অভিযোগ তুলে তিন ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, এক রিকশাচালকের মুঠোফোনে ধারণ করা ভিডিও যুবলীগের একজনের কাছে পাঠানোর অভিযোগ তুলে তাঁকে মারধর করা হয়। ওই সময় আয়াস বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীদের অপতৎপরতা ঠেকাতে তারা সেখানে অবস্থান নিয়েছেন। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের পুলিশের কাছে তুলে দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
তবে সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে আটকানো বা মারধরের ঘটনায় আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রশ্ন সামনে আসে।
২০২৫ সালের ২৬ মে ময়মনসিংহ নগরের পাটগুদাম ব্রিজ মোড় এলাকায় হামলার শিকার হন আয়াস। তার অভিযোগ ছিল, কয়েকজন যুবক তাকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করেন। পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আয়াস তখন জানিয়েছিলেন, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুরের প্রসঙ্গ তুলে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পালানোর চেষ্টা করলে তার হাত ও পায়ে ছুরিকাঘাত করা হয়। চিকিৎসকেরা তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও হামলাকারীদের পরিচয় ও হামলার কারণ তখন নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
এ ছাড়া গত ১৬ আগস্ট ময়মনসিংহের ভালুকায় সংগঠনের কাজে গিয়ে হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। তার দাবি, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ১৫ থেকে ২০ জন নেতা-কর্মী তার ওপর হামলা চালান এবং তাঁকে মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তিনি থানায় গিয়ে মৌখিক অভিযোগ করেন।
গত ২০ সেপ্টেম্বর ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের মাগুরার বাড়ির সামনে আয়াসের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাড়ির ফটকের সামনে প্রস্রাব করার একটি ভিডিও নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা তৈরি হয়।
এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের কবর জিয়ারতসহ কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নিতে মাগুরায় গিয়েছিলেন আয়াস।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে গত ৩ জুলাই অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি ও শান্তা ফারজানার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন আয়াসসহ তার সংগঠনের তিন ব্যক্তি।
তাদের অভিযোগ ছিল, ওই তিন নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য ও কর্মকাণ্ড করেছেন। পুলিশ তখন জানিয়েছিল, জিডিটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ, হামলার অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এসব কারণে একাধিকবার আলোচনায় এসেছেন আ ন ম আয়াস। সর্বশেষ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি মুছে ফেলার অভিযোগে আটকের ঘটনা তাঁকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে।