বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে পুরান ঢাকা বিভিন্ন এলাকার ফুটপাতজুড়ে গড়ে উঠেছে মুখরোচক খাবারের অসংখ্য দোকান। বিকেল হলেই এসব দোকানে বাড়তে থাকে ক্রেতাদের ভিড়। কম দামে পছন্দের খাবার পেয়ে অনেকে নিয়মিত এসব দোকানে খেতে আসেন। তবে খাবারের স্বাদ ও কম দামের আকর্ষণের আড়ালে উপেক্ষিত থাকছে পরিচ্ছন্নতা। দোকানের আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও পরিবেশনের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন ক্রেতারা।

ধানমন্ডি ২৭ নম্বর থেকে শুরু করে পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাতের খাবারের দোকান ঘিরে মানুষের ভিড় দেখা যায়। বার্গার, পিঠা, ভাজাপোড়া ও অন্যান্য মুখরোচক খাবার বিক্রি হচ্ছে এসব দোকানে। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এসব খাবারের ক্রেতা। কিন্তু অনেক দোকানের পাশেই জমে থাকে উচ্ছিষ্ট, প্লাস্টিকের প্যাকেট ও অন্যান্য বর্জ্য। কোথাও কোথাও ময়লার মধ্যেই খাবার তৈরি ও বিক্রির দৃশ্য দেখা যায়।
ধানমন্ডি এলাকায় খাবার কিনতে আসা এক শিক্ষার্থী বলেন, ফুটপাতের খাবারের দাম তুলনামূলক কম এবং সহজেই পাওয়া যায়। তবে দোকানের আশপাশে ময়লা পড়ে থাকতে দেখলে অস্বস্তি হয়। অনেক জায়গায় বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় পরিবেশ নোংরা হয়ে থাকে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, অনেক বিক্রেতা খাবার বিক্রির পর উচ্ছিষ্ট ও ব্যবহৃত সামগ্রী নির্দিষ্ট স্থানে না ফেলে ফুটপাতেই রেখে দেন। এতে পথচারীদের চলাচলে যেমন অসুবিধা হয়, তেমনি পরিবেশও দূষিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, কয়েকজন বিক্রেতার দাবি, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমস্যা তৈরি হয়। তবে শুধু ডাস্টবিনের অভাব নয়, বিক্রেতা ও ক্রেতা—উভয়ের অসচেতনতাও ফুটপাত নোংরা হওয়ার অন্যতম কারণ। এক বিক্রেতা জানান, অনেক সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি নিজ উদ্যোগে কয়েকটি ডাস্টবিন বসানোর পরিকল্পনার কথাও জানান।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, খোলা জায়গায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি ও সংরক্ষণ করা খাবার ধুলাবালি, জীবাণু এবং বিভিন্ন ধরনের দূষণের সংস্পর্শে আসতে পারে। অপরিচ্ছন্ন পানি ব্যবহার, বারবার একই তেল দিয়ে খাবার ভাজা এবং খাদ্যে অননুমোদিত রং বা উপাদান মেশানোর মতো বিষয়ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এসব খাবার খেয়ে পেটের অসুখসহ বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যসমস্যার ঝুঁকি তৈরি হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম জানিয়েছেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে বর্জ্য রাখার নির্ধারিত স্থান রয়েছে এবং কিছু এলাকায় ডাস্টবিনও স্থাপন করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ডাস্টবিন বসানোর সুযোগ রয়েছে। তবে নগর পরিচ্ছন্ন রাখতে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে।

ফুটপাতের খাবারের দোকানগুলো নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠলেও নিরাপদ খাদ্য ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন এবং বিক্রেতা-ক্রেতাদের সচেতনতা বাড়ানো গেলে এ সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। অন্যথায় স্বল্পমূল্যের মুখরোচক খাবার খেতে গিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন অসংখ্য মানুষ।