বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর আধুনিকায়নে গতি আনতে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসকে ২০২৬ সালের মধ্যেই অন্তত একটি নতুন উড়োজাহাজ সরবরাহ করার বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও এয়ারবাসের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। মন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রজন্মের এয়ারবাস যুক্ত হলে বিমানের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুটে বৈশ্বিক প্রতিযোগীদের সঙ্গে কার্যকরভাবে টিকে থাকা সম্ভব হবে।
চুক্তিটিকে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ আখ্যা দিয়ে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, দেশের আন্তর্জাতিক আকাশপথের প্রায় ৮০ শতাংশ যাত্রী বর্তমানে বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো পরিবহন করছে, আর জাতীয় পতাকাবাহী বিমান পরিবহন করতে পারছে মাত্র ২০ শতাংশ। বিদ্যমান উড়োজাহাজ সংকটের কারণে সৃষ্ট এই অসম বণ্টন দূর করতে এবং সম্প্রসারিত অর্থনীতির সাথে সংগতি রেখে নিজস্ব এয়ারলাইনসের পরিধি বাড়ানো অপরিহার্য। এই ঘাটতি পূরণে এয়ারবাসের আঞ্চলিক শীর্ষ নির্বাহীদের প্রতি তিনি অনুরোধ জানান, যেন ২০২৬ সালের মধ্যেই বহরে যুক্ত করার জন্য অন্তত একটি উড়োজাহাজ হস্তান্তর করা হয়।
দেশের এভিয়েশন রূপরেখা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তর করাই সরকারের লক্ষ্য। এজন্য এয়ারবাস ও বোয়িং—উভয় প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে একটি সুষম বহর গড়ে তোলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার অ্যান্ড ওভারহল (এমআরও) কারখানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি ইউরোপীয় উদ্যোক্তাদের সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৭ সালের জুন থেকে বাংলাদেশি কার্গো ও ডাকের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরোপিত উচ্চঝুঁকির তকমা কাটিয়ে উঠতে সরকার ব্যাপক সংস্কার করেছে; যার ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১৭ জুলাই যুক্তরাজ্যের পরিবহন বিভাগের মূল্যায়নে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৮ শতাংশ এবং ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৪ শতাংশ নম্বর অর্জন করেছে। এ বাস্তবতায় তিনি ইইউর নিষেধাজ্ঞা দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানান। কর্মীদের পেশাদারত্ব বৃদ্ধির তাগিদ দিয়ে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, কেবল নতুন উড়োজাহাজ কেনাই যথেষ্ট নয়, বরং কর্মীদের সততা, শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতার ওপরই দেশের ভাবমূর্তি ও বিমানের চূড়ান্ত সাফল্য নির্ভর করছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত সারাহ কুক, জার্মানির রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোটজ, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মারিন শুহ, স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল মারিয়া সিসতিয়েগা ওচহোওয়া দি চিনচিত্রু, এয়ারবাস ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার সভাপতি ইয়ুর্গেন ভেস্টারমায়ার, বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ এবং বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে এয়ারবাসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গিয়োম ফোরির ধারণকৃত ভিডিও বার্তা প্রচার করা হয়।