বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং তাদের সেবা নিশ্চিত করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, জনগণ যে আশা নিয়ে সরকারকে ভোট দেয় সেই প্রত্যাশা পূরণে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের গ্র্যান্ড বলরুমে ‘জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব হলো জনগণের প্রয়োজনীয় কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করা। স্থানীয় সরকারের কোনো প্রতিনিধি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে শেষ পর্যন্ত এর দায় সরকারের ওপরই পড়ে।
নির্বাচিত প্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন। বিপরীতে জনপ্রতিনিধিদের মেয়াদ পাঁচ বছর। এরপর আবার জনগণের কাছে গিয়ে নিজেদের কাজের মূল্যায়ন দিতে হয়। তাই জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতার গুরুত্ব অনেক বেশি।
গ্রামাঞ্চলের মানুষের ভোগান্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অনেক সাধারণ ও স্বল্পশিক্ষিত মানুষ একটি জন্মনিবন্ধন সনদ পেতে ইউনিয়ন পরিষদে দিনের পর দিন ঘুরছেন। এ ধরনের পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রয়োজন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে মানুষের সুবিধা-অসুবিধা দেখাই সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।
তিনি জানান, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম আরও সুষ্ঠু ও নিরবচ্ছিন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাজের পদ্ধতি ভিন্ন হলেও উদ্দেশ্য এক—জনগণের সেবা করা। রাষ্ট্রের হাতে থাকা ক্ষমতা মানুষের প্রয়োজন পূরণ, অধিকার নিশ্চিত ও জনসেবা সহজ করার কাজে ব্যবহার করতে হবে।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থার তথ্যের অসঙ্গতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষ্য, দেশের প্রকৃত জনসংখ্যার তুলনায় নিবন্ধন ডাটাবেজে থাকা তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। প্রায় ১৯ কোটি মানুষের দেশে এর চেয়ে বেশি মানুষের তথ্য ডাটাবেজে থাকা বিষয়টি পর্যালোচনা করে নিবন্ধন ব্যবস্থাকে আরও নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য করতে হবে।
প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ব্যবস্থার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, শুধু কম্পিউটার বা প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই জনগণের সেবা নিশ্চিত হবে না; প্রযুক্তির পেছনে থাকা মানুষকেও দায়িত্বশীল হতে হবে। একটি জন্মসনদ পেতে কোনো নাগরিককে যেন বারবার ইউনিয়ন পরিষদে যেতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের পেছনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান রয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) ফারাহ শাম্মী, ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেলিগেশনের হেড অব ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ড. মিখাল ক্রেজা এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।