বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
নতুন রাডার ও আধুনিক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) ব্যবস্থা চালুর পর বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক এটিসি টাওয়ার ও পূর্ণাঙ্গ রাডার ব্যবস্থা চালুর পর বিদেশি উড়োজাহাজের ওভারফ্লাই বা ফ্লাইওভার ফি আদায়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শুধু ওভারফ্লাই ফি থেকেই সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ৮০৫ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে আয় হয়েছিল ৩৩৮ কোটি টাকার বেশি। আর পরের ছয় মাসে আয় দাঁড়ায় প্রায় ৪১৬ কোটি টাকা।
অর্থাৎ আধুনিক রাডার ও এটিসি ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পর ছয় মাসে আগের ছয় মাসের তুলনায় রাজস্ব আদায় আরও বেড়েছে। গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৭০ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব এসেছে এ খাত থেকে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন সীমিত সক্ষমতার রাডার ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর কারণে দেশের আকাশসীমায় উড়োজাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণে নানা সীমাবদ্ধতা ছিল। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন আকাশসীমার একটি অংশ কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ ছিল। ফলে বিদেশি উড়োজাহাজের চলাচল শনাক্ত ও সঠিকভাবে ফি আদায়ে জটিলতা তৈরি হতো।
আধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট (এটিএম) এবং কমিউনিকেশন, নেভিগেশন অ্যান্ড সার্ভেইল্যান্স (সিএনএস) ব্যবস্থা চালুর মধ্য দিয়ে সেই সীমাবদ্ধতা অনেকটাই দূর হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্পটির আওতায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন এটিসি টাওয়ার স্থাপনের পাশাপাশি আধুনিক রাডার ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।
ফ্রান্সের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থেলসের সঙ্গে জি-টু-জি ভিত্তিতে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯৪২ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) অর্থায়ন করেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, নতুন প্রযুক্তির ফলে দেশের আকাশসীমায় প্রবেশ ও তা অতিক্রমকারী উড়োজাহাজের গতিপথ আরও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। এতে আকাশসীমা ব্যবহারের বিপরীতে নির্ধারিত ফি আদায়ও সহজ হয়েছে।
এভিয়েশন খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ রুটে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আকাশসীমা ব্যবস্থাপনা জোরদার করা গেলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয়ও আরও বাড়ানো সম্ভব।
তাদের মতে, আকাশসীমার কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতকে আরও সক্ষম ও রাজস্বনির্ভর করে তুলতে পারে।