বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও বাংলাদেশের রয়েছে নিশ্চয়তা, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সম্ভাবনা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর সোনারগাঁওয়ে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এর তৃতীয় দিনের ‘লিডারশিপ ইন অ্যান এজ অব আনসার্টেইনটি’ শীর্ষক সেশনে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তা স্বীকার করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া স্বাভাবিক ও অনিবার্য। তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের আদর্শ ও নীতিবোধে নিশ্চয়তা থাকতে হবে। একই সঙ্গে পরিকল্পনা ও কর্মসূচিতে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও সম্ভাবনা থাকতে হবে।
তিনি বলেন, সমাজ কিংবা জাতীয় পর্যায়ে যখনই কোনো সংকট দেখা দেবে, তা কার্যকরভাবে মোকাবিলার জন্য সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা এমন একটি সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছি, যারা দীর্ঘ সময় পর জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্বকারী একটি গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা থাকলেও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা অটুট থাকবে।
মানবাধিকার, আইনের শাসন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাকে সরকারের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ও অধিকারকে গুরুত্ব দিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে।
ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার উদাহরণ হিসেবে রোহিঙ্গা সংকটের কথা তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, এ সংকট বাংলাদেশের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রস্তুত থাকতে পারে এবং বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে।
তিনি বলেন, সংকটের সূত্রপাত যেহেতু মিয়ানমারে, এর সমাধানও মিয়ানমারেই হতে হবে।
বাংলাদেশ ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা যতদিন বাংলাদেশে অবস্থান করবে, ততদিন তাদের মানবিক জীবন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও অর্থায়ন অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করতে হবে।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক্সের দ্রুত বিকাশের কথা উল্লেখ করে দেশের তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক দক্ষতায় গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, প্রযুক্তির বিবর্তনের কারণে কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলেও সঠিক প্রশিক্ষণ ও দেশের বিশাল জনমিতিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।
এ লক্ষ্যে শিক্ষাক্রম আধুনিকায়ন, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে সংযোগ বৃদ্ধি, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদার এবং শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পরিবেশগত সংকট ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ভূগর্ভস্থ ও প্রাকৃতিক পানি সংরক্ষণে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও পানি ব্যবস্থাপনার জন্য ঐতিহাসিক পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ এবং তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ভবিষ্যতে বৈশ্বিক আর্থিক বা অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিতে পারে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, সঠিক নীতি প্রণয়ন ও প্রস্তুতির মাধ্যমে এসব সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।
নারীদের সুরক্ষায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের জন্য ‘ফার্মার কার্ড’ এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ‘হেলথ কার্ড’ চালুর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার মূলত একটি সমন্বিত ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’-এর দিকে এগোচ্ছে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিককে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।
তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকারের বড় পরিকল্পনার কথাও জানান মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তৃণমূলের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করতে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব স্বাস্থ্যকর্মীর ৮০ শতাংশই নারী হবেন, যাতে দেশের প্রতিটি পরিবারে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসুরক্ষায় নিবেদিত কর্মী উপস্থিত থাকেন।
শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অবাধ যাতায়াত, কানেক্টিভিটি, প্রযুক্তি ও সমুদ্র নিরাপত্তার মতো ক্ষেত্রে মানুষে মানুষে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
জ্বালানি খাতের সংকটের কথা তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে বেশ কিছু সংকট পেয়েছে। এর মধ্যে জ্বালানি খাত অন্যতম।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ কোন দিকে মোড় নেবে, তা বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে নেই। তবে ভবিষ্যৎ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সুরক্ষিত করা এবং জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ—সব ক্ষেত্রেই বহুমুখী উৎসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মাহদী আমিন বলেন, শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বজুড়েই রাজনৈতিক টানাপোড়েন রয়েছে। তবে সব নীতি প্রণয়নের কেন্দ্রে জনগণকে রাখা গেলে, জাতি গঠনের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে মানুষকে স্থান দেওয়া গেলে এবং তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নীতি প্রণয়ন করা হলে যেকোনো অনিশ্চয়তা সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করা সম্ভব।
তিনি বলেন, দৃঢ় মূল্যবোধ, সঠিক পরিকল্পনা, কার্যকর কর্মসূচি ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রস্তুত থাকলে বড় পরিবর্তন আনা এবং ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করা সম্ভব।
‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এর প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, আঞ্চলিক সংহতির গুরুত্ব অনুধাবন করে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। এই অঞ্চল তথা বিশ্বমঞ্চে একে অপরের প্রতি সম্মান, পারস্পরিক আস্থা এবং সম্পর্কের প্রতিটি ক্ষেত্রে পারস্পরিক কল্যাণ নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, যেকোনো সংকট একসঙ্গে মোকাবিলা করা সম্ভব। সবাই একসঙ্গে এগিয়ে গেলে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে বড় বড় চ্যালেঞ্জও জয় করা সম্ভব।