বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে যাওয়ার সময় তাকে গ্রহণ করা ছাড়া ভারতের সামনে অন্য কোনো সুযোগ ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও তাকে কবে ফেরত দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা সম্ভব নয়।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬-এর একটি অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব কথা বলেন ভারতের হাইকমিশনার। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।
শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, সে সময় প্রতিবেশী ও পুরোনো বন্ধু হিসেবে ভারতের দায়িত্ব ছিল পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া। তাকে ভারতে প্রবেশের সুযোগ না দিলে পরবর্তী পরিস্থিতি কী হতো, তা বলা কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হাইকমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনাকে ভারতে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের সেনাবাহিনী বা বিমানবাহিনীর কোনো ভূমিকা ছিল না। তিনি জানান, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সামরিক বিমানে করে ভারতে গিয়েছিলেন।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ওই সময়ের পরিস্থিতির জন্য ভারত সরকার আগে থেকে প্রস্তুত ছিল না। শেখ হাসিনা যে ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন, বিশ্বের অন্য কোথাও যেন এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরে হাইকমিশনার বলেন, প্রত্যর্পণের বিষয়টি একটি নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় আদালতও যুক্ত রয়েছে। ফলে তাকে কবে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া সম্ভব নয়।
তিনি জানান, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে একাধিকবার জানিয়েছে যে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ নির্ধারিত আইনি কাঠামোর মধ্যে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে নিজস্ব আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই প্রত্যর্পণের বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এগোচ্ছে।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর কাছে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুত করার প্রত্যাশা জানানো হয়েছিল।
এর পরদিন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের অনুরোধটি ভারতের প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত হলে জানানো হবে।
শনিবারের বক্তব্যে দীনেশ ত্রিবেদীও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া চলমান থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে সম্ভাব্য সময়সীমা বা কবে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেননি।
শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান ও তার প্রত্যর্পণের দাবি বর্তমানে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের আলোচিত বিষয়গুলোর একটি। দুই দেশের মধ্যে অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও প্রত্যর্পণ ইস্যুতে এখনো আইনি প্রক্রিয়ার ওপরই জোর দিচ্ছে ভারত।