বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
ঢাকায় আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের অর্থনীতি, কৃষি, বিনিয়োগ, সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ, পানি ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সংলাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ বক্তা, ৩০০-এর বেশি প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী অংশ নিচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, নীতিমালার ধারাবাহিকতা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তারেক রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি কৃষি। কৃষকদের জন্য প্রযুক্তি, সেচ, কৃষি অর্থায়ন ও কৃষিপণ্যের বাজারসংযোগ সহজ করার পাশাপাশি মৎস্য, প্রাণিসম্পদ এবং গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেওয়ার কথা জানান তিনি।

খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষি রপ্তানি শিল্পের বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারে।
বাংলাদেশকে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উৎপাদন, সেবা ও রপ্তানি খাতে কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত নিশ্চয়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতির ধারাবাহিকতার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে পরিবারের মায়েদের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
‘কৃষক কার্ড’-এর মাধ্যমে কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা, কৃষিসেবা ও বাজারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি ‘হেলথ কার্ড’-এর মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা এবং ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’-এর মাধ্যমে সমন্বিত সরকারি সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তাদের প্রায় ৮০ শতাংশ নারী হবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় রেফারেল সেবা দেওয়ার পাশাপাশি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
শিক্ষাব্যবস্থাকে বাস্তব জীবনের উপযোগী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটানো হবে।
প্রথম শ্রেণি থেকে বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও বৃত্তি দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষার পরিধি সম্প্রসারণের কথাও বলেন।
দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের জন্য ভাষাগত দক্ষতা, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও স্টার্টআপে সহায়তার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণদের বৈশ্বিক কর্মবাজারে প্রতিযোগিতার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে এবং ‘ব্রেইন ড্রেনকে ব্রেইন সার্কুলেশনে’ রূপান্তর করতে হবে।
পানি নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কথাও জানান তিনি।
তার মতে, এসব উদ্যোগ কৃষিখাতের উন্নয়নের পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
পরিবেশ রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতির বড় সম্ভাবনা রয়েছে।
জাহাজ চলাচল, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থায় এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন বাজার উন্মুক্ত করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ সংলাপ, অংশীদারত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাসী। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, শান্তি ও সম্প্রীতি যৌথ সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের ভিত্তি। বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে এমন একটি এলাকায় পরিণত করার লক্ষ্য থাকা উচিত, যেখানে দেশগুলো একসঙ্গে বিকশিত হবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে নাগরিকদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। তাদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য।
এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক সমর্থন ও অর্থায়ন প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে সংকটের মূল কারণ সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, যে সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, এর সমাধানও মিয়ানমারেই হতে হবে।
সিজিএসের আয়োজনে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’ পঞ্চমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৩ থেকে ৫ অক্টোবর চলা এই সম্মেলনে ভূরাজনীতি ও নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও যোগাযোগ, জলবায়ু পরিবর্তন, মানব নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও সুশাসনসহ বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক, গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন।