বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের বিশাল কর্মযজ্ঞের পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে যে, নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর প্রতিনিধিদল মোট প্রায় ৮০টি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে ৩০টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ বৈঠকে সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন, যার মধ্যে জাতিসংঘের মূল অধিবেশন ও উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন ছিল আটটি। বাকি ৫০টি প্রযুক্তিগত, পরিবেশগত ও বাণিজ্যিক সাইডলাইন বৈঠকে নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রতিনিধিদলে থাকা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা। প্রেস উইং জানিয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে এই সফরটি ছিল নজিরবিহীন সফল ও গতিশীল।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের বিস্তারিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, নিউইয়র্কে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিটি বৈঠক অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ও জাতীয় অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারকে সামনে রেখে সাজানো হয়েছিল। ১১টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় অংশ নেন সরকারপ্রধান। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিনটি প্রধান অগ্রাধিকারকে বিশ্বনেতাদের সামনে জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়: কক্সবাজারে অবস্থানরত ১২ লাখেরও বেশি বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও সহজ শর্তের তহবিল আদায় এবং এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পণ্যের অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা অক্ষুণ্ন রাখা। এছাড়া বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শীর্ষ নির্বাহীদের সাথে আলোচনায় দেশের আর্থিক খাত ও ব্যাংকিং সংস্কারে বহুপাক্ষিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করা হয়।
সরকারি ও কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি বাংলাদেশে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণ এবং প্রবাসী ব্যবসায়ীদের উদ্বুদ্ধ করতে প্রধানমন্ত্রী একাধিক উচ্চপর্যায়ের বিনিয়োগ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। মার্কিন শীর্ষস্থানীয় করপোরেট নির্বাহীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ বিনিয়োগ গোলটেবিলে প্রধানমন্ত্রী দেশের শিল্প নীতি, শুল্ক সংস্কার এবং ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের অনন্য সুযোগগুলো তুলে ধরেন। তিনি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, দেশে এখন ঘুষ, দুর্নীতি ও দলীয় সিন্ডিকেটের কোনো স্থান নেই এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও আইনি সুরক্ষার মধ্য দিয়েই বিনিয়োগকারীদের মূলধন ও মুনাফা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা হবে। এই ইতিবাচক বার্তার ফলে তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং টেক্সটাইল খাতের বেশ কয়েকটি শীর্ষ বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সুনির্দিষ্ট আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই নিবিড় ও গতিশীল কূটনৈতিক তৎপরতাকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দেশের বাণিজ্য সংগঠনগুলোর নেতারা বলছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কোনো কোনো মহল যে অনিশ্চয়তার প্রচার চালিয়েছিল, জাতিসংঘের এই ধারাবাহিক কর্মসূচিগুলো সেই অপপ্রচার সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, ৮০টি কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে সরাসরি যে কার্যকর যোগাযোগ তৈরি হয়েছে, তা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সংকট লাঘব এবং বাজেট ঘাটতি পূরণে সহজ শর্তের ঋণ প্রাপ্তিতে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। সাধারণ মানুষ ও তরুণ সমাজের প্রতিনিধিরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন যে, আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশ এখন আর কেবল একটি সাহায্যপ্রার্থী রাষ্ট্র নয়, বরং সমমর্যাদা ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে নিজের অধিকার আদায়ে সোচ্চার কণ্ঠ হিসেবে উপস্থিত হয়েছে।
দেরিতে অনুষ্ঠিত এই প্রেস ব্রিফিংয়ে সার্বিক সফরের ইতিবাচক মূল্যায়ন তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, "জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কেবল একটি আনুষ্ঠানিক ভাষণ দেননি, বরং তিনি দেশের ১৮ কোটি মুক্তিকামী মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরেছেন।" সফরের দীর্ঘমেয়াদি সুফল তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, "নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত প্রতিটি কর্মসূচিই দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত; কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের মর্যাদা সুরক্ষায় এই সফরের ফলাফল খুব দ্রুত দৃশ্যমান হবে।" প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, জাতিসংঘ সফরে বিশ্বনেতাদের সাথে অর্জিত বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক ও অর্থনৈতিক চুক্তিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী রবিবার থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নিয়ে একটি বিশেষ আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সেল কাজ শুরু করবে। এই সেল প্রতিটি দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের অগ্রগতি সাপ্তাহিক ভিত্তিতে পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে নিয়মিত প্রতিবেদন পেশ করবে।