বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অমিতাভ বসু
বিপজ্জনক হারে বৃদ্ধি পাওয়া ব্যয়বহুল তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনের অডিটোরিয়ামে পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের ঊর্ধ্বতন ভূতাত্ত্বিক ও প্রকৌশলীদের সাথে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের নীতি নির্ধারণী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই ঘোষণা দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অমিতাভ বসু। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নিজেদের ভূগর্ভস্থ সম্পদের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করার কোনো বিকল্প নেই।
প্রতিমন্ত্রী অমিতাভ বসু জানান, পেট্রোবাংলা প্রণীত ৫০টি নতুন অনুসন্ধান ও উন্নয়ন কূপ খনন কর্মসূচি দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে সিলেটের সুরমা অববাহিকা এবং উপকূলীয় অঞ্চলে ২৮টি নতুন অনুসন্ধান কূপ এবং ২২টি পুরোনো কূপের সংস্কার বা ওয়ার্কওভার কাজ পরিচালনা করবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। এই প্রকল্পের সফল সমাপ্তির মাধ্যমে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক অন্তত ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট নতুন গ্যাস যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা উচ্চমূল্যে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার আর্থিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে।
সাগরের নীল অর্থনীতি ও জ্বালানি সম্পদের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গোপসাগরে গভীর ও অগভীর সমুদ্রের ২৪টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোকে (আইওসি) আকৃষ্ট করতে মডেল পিএসসি ২০২৬ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই চুক্তিতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আকর্ষণীয় মুনাফা ও গ্যাসের ন্যায্যমূল্যের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, নরওয়ে এবং জাপানের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি বৈশ্বিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান বঙ্গোপসাগরের মাল্টি-ক্লায়েন্ট সিসমিক সার্ভের তথ্য পর্যালোচনা করে গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধানী ড্রিলিংয়ে অংশ নেওয়ার গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও শীর্ষ অর্থনীতিবিদরা সরকারের এই কৌশলগত অবস্থানকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেছেন। তারা বলেন, গত কয়েক বছরে ডলার সংকটের প্রধান কারণ ছিল অতিরিক্ত এলএনজি আমদানি। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশের সার কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং তৈরি পোশাকের মতো প্রধান রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল। নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ কমবে, শিল্প কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হবে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষিত থাকবে।
সভায় পেট্রোবাংলা এবং এর আওতাধীন কোম্পানিগুলোর প্রধানদের উদ্দেশে দৃঢ় নির্দেশনা দিয়ে মঙ্গলবার রাতে প্রতিমন্ত্রী অমিতাভ বসু বলেন, জ্বালানি খাতে অতীতের সকল অস্বচ্ছতা ও দীর্ঘসূত্রতা দূর করে স্বচ্ছতার সাথে কাজ করতে হবে। প্রকৌশলীদের উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অমিতাভ বসু বলেন, "আমাদের মাটি ও বঙ্গোপসাগরের তলদেশে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ লুকিয়ে রয়েছে; আমরা বছরের পর বছর হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে বিদেশ থেকে গ্যাস কিনে দেশের রিজার্ভ শূন্য করতে পারি না, অনুসন্ধান কার্যক্রমকে এখন একটি জাতীয় আন্দোলন হিসেবে এগিয়ে নিতে হবে।" তিনি বিশেষ করে ভোলা ও সিলেটের নতুন গ্যাসক্ষেত্রগুলোর অবকাঠামো দ্রুত গ্রিডে যুক্ত করার নির্দেশ দেন।