বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে পাঁচ দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষ করে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইকে-৫৮২ ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তার প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণ।
পাঁচ দিনের সফর শেষে দেশে ফেরার পথে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ছয় ঘণ্টার যাত্রাবিরতি করেন তিনি। যাত্রাবিরতি শেষে স্থানীয় সময় রাত ২টায় দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় তাকে বহনকারী ফ্লাইটটি। রোববার সকালে ঢাকায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশ্বমঞ্চে দেওয়া ভাষণে তিনি বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ, জাতীয় অগ্রাধিকার এবং একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্বসমাজ গঠনের প্রত্যাশা তুলে ধরেন।
ভাষণে বিশ্বশান্তি, বহুপাক্ষিকতা, রোহিঙ্গা সংকট, ফিলিস্তিন ইস্যু, জলবায়ু ন্যায়বিচার, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি এবং তরুণদের সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন ও শোষণের অবসানের পর বাংলাদেশ আবারও গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে।
অতীতের শাসনামলে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠনে সরকার ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন’ (Recovery, Restoration and Reconstruction) বা ৩-আর কৌশল অনুসরণ করছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামনে এখন এক অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। দেশের উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোও তিনি তুলে ধরেন।
জাতিসংঘের এবারের সফরে সাধারণ পরিষদের মূল অধিবেশনের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি প্রায় ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ সভা, সেমিনার ও অন্যান্য কর্মসূচিতে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সফরকালে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপাক্ষিক ও পার্শ্ববৈঠকে অংশ নেন তিনি।
এসব বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও অগ্রাধিকার তুলে ধরার পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
নিউইয়র্ক সফরে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও অগ্রাধিকার তুলে ধরেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসন এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের ওপর রোহিঙ্গা সংকটের প্রভাব এবং সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।
সফরকালে জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিবিষয়ক বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি তার জাতিসংঘের ভাষণেও গুরুত্ব পায়। এ ছাড়া বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।
জাতিসংঘ সফরে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবাবিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। জনস্বাস্থ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়গুলোও বিভিন্ন বৈঠক ও আলোচনায় স্থান পায়।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও সফরকালে স্বাস্থ্য ও নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান নিউইয়র্ক সফরকালে আটটি উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে চারটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তিনি।
তার অংশ নেওয়া কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ‘প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স’, ‘ফার্স্ট স্পাউসেস’ ডায়ালগ এবং মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান।
এসব কর্মসূচিতে নারীর ক্ষমতায়ন, মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা এবং স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সফরে বিশ্বশান্তি, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়।
পাঁচ দিনের সফর শেষে রোববার সকালে ঢাকায় ফেরার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের কর্মসূচি শেষ হলো।