বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে সোমবার সকালে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন -ছবি: পিএমও
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে তুর্কি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হন। সফরসঙ্গী হিসেবে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন। সফরকালে জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা সংকট, মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুরু হয়েছে এবং অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এবারের অধিবেশনের প্রতিপাদ্য ‘Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations That Delivers for All’।

সোমবার ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ফ্লাইটটি ছেড়ে যায়। তাকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিবের তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইটটি ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি শেষে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাবেন। পরে মোটর শোভাযাত্রায় তাকে নির্ধারিত হোটেলে নেওয়া হবে।
সফরের শুরুতেই ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
এরপর তিনি সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে যোগ দেবেন। সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
২৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
পরে ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা’ বিষয়ক একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
একই দিনে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায়সংগত উত্তরণ’ বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেবেন তিনি।
জলবায়ু সংক্রান্ত আলোচনায় বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকি, অভিযোজন, জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়গুলো তুলে ধরার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে থাকছে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি পার্শ্ব-অনুষ্ঠান।
এতে মিয়ানমারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়ে আসছে। জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোতে এ বিষয়টি তুলে ধরার সুযোগও থাকছে বাংলাদেশের সামনে।
২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত ঝুঁকি নিয়ে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠনে উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়া বাংলাদেশ আয়োজিত দুটি পার্শ্ব-অনুষ্ঠানেও অংশ নেবেন তিনি। এর একটি মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং ধাত্রীবিদ্যা বিষয়ক।
সেখানে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরার পাশাপাশি দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে।
জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে।
কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।
এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
সফরকালে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত এবং জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবাধিকারবিষয়ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে।
এ ছাড়া ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

সফরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। প্রধানমন্ত্রী মেটা, ওয়াল স্ট্রিট এবং কয়েকটি ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানানো হয়েছে।
এসব বৈঠকে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসতে পারে।
নিউইয়র্ক সফর শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১টায় এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা আলোচনা চলছে। অধিবেশনের এবারের প্রতিপাদ্যও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় আস্থা পুনর্গঠন ও কার্যকর বহুপক্ষীয় সহযোগিতার ওপর জোর দিচ্ছে।