বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
সাভারের আশুলিয়ার জামগড়ায় একটি পোশাক কারখানার চত্বরে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী কাভার্ডভ্যানে বিস্ফোরণের ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৬ জন। বিস্ফোরণের পর একের পর এক সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আশপাশের কয়েকটি গাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে জামগড়া এলাকার প্রীতি গ্রুপের কারখানা চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ৮টা ৩ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস।
নিহতদের মধ্যে জয়নব (৫৫) নামে এক নারী রয়েছেন। তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকার মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী। স্বজনদের ভাষ্য, মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে পাশের একটি টেইলার্সে অবস্থান করছিলেন জয়নব। বিস্ফোরণের সময় কাভার্ডভ্যান থেকে ছিটকে আসা একটি সিলিন্ডার টিনের ছাদ ভেদ করে তার মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, রাত সোয়া ১১টার দিকে কাভার্ডভ্যানের ভেতর থেকে আরও পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রথমে একটি সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এরপর কাভার্ডভ্যানে আগুন ধরে গেলে তাপের কারণে একে একে অন্য সিলিন্ডারগুলোও বিস্ফোরিত হতে থাকে। এতে আশপাশে থাকা আরও কয়েকটি সিলিন্ডারবাহী গাড়িসহ অন্তত সাত-আটটি গাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা জোন-৪-এর উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, খবর পেয়ে জিরাবো ও ডিইপিজেড ফায়ার স্টেশনের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয়। যানজটের কারণে তারা প্রায় ৭টা ১০ মিনিটে সেখানে পৌঁছান। গিয়ে পাঁচ থেকে ছয়টি কাভার্ডভ্যানে আগুন দেখতে পান তারা। পরে রাত ৮টা ৩ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
তিনি জানান, কাভার্ডভ্যানগুলোতে এলপিজি সিলিন্ডার ছিল। তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে এবং এতে মোট কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপক হারুন অর রশীদ বলেন, বিস্ফোরণের পর ২৬ জন আহতকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের বেশিরভাগই কারখানার আশপাশের সবজি বিক্রেতা ও পথচারী। গুরুতর দগ্ধ পাঁচ থেকে ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় প্রীতি গ্রুপের কারখানার কয়েকটি জানালার কাচও ভেঙে যায়। ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, বিস্ফোরণের ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে সিলিন্ডারের আঘাতে ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।