বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
দেশে একটি প্রতিষ্ঠিত সাংবিধানিক কাঠামো বিদ্যমান থাকায় নতুন সংবিধান প্রণয়ন করার কোনো আইনি বা যৌক্তিক সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একইসঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যেই সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনীর খসড়া চূড়ান্ত করে জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
নতুন সংবিধান প্রণয়নের রাজনৈতিক দাবির জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "নতুন সংবিধানের মধ্যে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই, কারণ আমাদের একটি কার্যকর সংবিধান রয়েছে। মূলত একটি নতুন রাষ্ট্র গঠিত হলে কিংবা নতুন স্বাধীনতা পেলে কনস্টিটিউয়েন্ট অ্যাসেম্বলি বা গণপরিষদের মাধ্যমে নতুন সংবিধান গ্রহণ করা হয় এবং পরে তার আলোকে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি গঠিত হয়। এটি একটি অত্যন্ত দীর্ঘ প্রক্রিয়া।"
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, কমিটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে নিতে চায় এবং সম্ভব হলে প্রতি সপ্তাহে একটি করে মতবিনিময় বৈঠকের আয়োজন করা হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা সমাপ্ত করে জাতীয় সংসদে চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করা হবে। সেই রিপোর্টের আলোকে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিল উত্থাপন করবে।
তিনি জানান, জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ১৫টি দলের প্রতিনিধি আজকের বৈঠকে সরাসরি অংশ নিয়েছেন, একটি দল লিখিত বক্তব্য দিয়েছে এবং একটি দলের প্রতিনিধি অসুস্থতার কারণে সশরীরে আসতে না পারলেও টেলিফোনে মতামত জানিয়েছেন। ফলে কার্যকর অর্থে ১৭টি দলের অংশীদারি নিশ্চিত হয়েছে। তবে জামায়াত ও এনসিপিসহ কিছু দল ভিন্ন দাবি তুলে বৈঠকে অংশ নেয়নি।
বিরোধীদলগুলোর অনুপস্থিতিতে আলোচনা একপাক্ষিক হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "একপাক্ষিক কীভাবে হলো? এখানে তো ১৭টি পক্ষের কার্যকর অংশগ্রহণ রয়েছে। এছাড়া সনদে স্বাক্ষর করেনি এমন অনিবন্ধিত বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দল যদি গঠনমূলক প্রস্তাব পাঠাতে চায়, তবে তাদের জন্যও আমাদের দ্বার খোলা। তারা লিখিত বক্তব্য জমা দিলে তা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে।"
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, বিএনপি বা সরকার সংখ্যাধিক্যের জোরে জুলাই সনদ এড়াতে চায়—মাঠের এমন প্রচার সম্পূর্ণ অসত্য। সরকার জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। একইসঙ্গে জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত নির্বাচনি অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নেও সংবিধানে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, বর্ষা মৌসুমে উন্নয়নকাজে অর্থের অপচয় ও তছরুপ রোধে মন্ত্রিসভায় দেশের ঋতু অনুসারে বাজেটবর্ষ ‘এপ্রিল–মার্চ’ করার যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সংবিধানের দুটি অনুচ্ছেদে সংশোধনী আনতে হবে। তিনি যোগ করেন, ভবিষ্যতে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এসে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে জনস্বার্থে তারাও সাংবিধানিক পরিবর্তন আনতে পারবে।