বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

অপ্রতিমের প্রথম জানাজার আগে কথা বলছেন বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার। রোববার সকালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে -ছবি : সংগৃহীত
কুমিল্লায় হত্যার শিকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল সোয়া ১১টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি এলাকার স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে সকাল ১০টা ১০ মিনিটের দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেলা ১১টার দিকে কোটবাড়ির গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দুই জানাজাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সহপাঠী, স্বজন ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
জানাজায় অংশ নেওয়া মানুষের মধ্যে ছিল শোকের আবহ। অনেকেই অকালেই প্রাণ হারানো কিশোর অপ্রতিমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান তারা।
রোববার সকালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে ছেলের প্রথম জানাজার আগে অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, তার একমাত্র সন্তান অপ্রতিম কুমিল্লার পরিবেশেই বড় হয়েছে।
তিনি বলেন, আমার একটাই ছেলে ছিল। কুমিল্লার আবহাওয়ায়, কুমিল্লার আকাশের নিচে, আপনাদের ভালোবাসায় ও স্নেহে সে বড় হয়েছিল। ওর বয়স ১৩ বছর।
এ সময় শত শত মানুষের সামনে স্ট্রেচারে শায়িত ছিল অপ্রতিমের মরদেহ।

প্রথম জানাজা শেষে ছেলের হত্যার সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার দাবি করেন ফিরোজ শাহরিয়ার। তিনি জানান, দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি তার আস্থা রয়েছে এবং সেই আস্থা অটুট থাকবে বলে তিনি আশা করেন।
কোটবাড়ির গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে দ্বিতীয় জানাজার সময়ও ছেলেকে নিয়ে আবেগঘন কথা বলেন অপ্রতিমের বাবা।
তিনি জানান, অপ্রতিমের বয়স যখন দুই বছর, তখন তারা এই এলাকায় আসেন। তার স্ত্রী কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ায় অপ্রতিমও এই এলাকার মানুষের স্নেহ-ভালোবাসার মধ্যে বেড়ে ওঠে।
ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, অপ্রতিম আপনাদের কাছেই বড় হয়েছে। আপনাদের আদর-স্নেহ পেয়েছে, আপনাদের বাসায় খেয়েছে। তাই আপনাদের কাছেই অপ্রতিমকে সমাহিত করছি।
তিনি আরও বলেন, ‘আর কাউকে যেন আমার মতো সন্তান হারাতে না হয়। বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ কতটা কষ্টের, সেটা আজ বুঝতে পারছি।’
অপ্রতিম বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।
পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে।
বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে ওইদিন সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা।
নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশে সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরে তার মরদেহের ময়নাতদন্তসহ আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তবে তাদের বয়স ও পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করা হচ্ছে।
অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা মুঠোফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে তিনি জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করা তুহিনের কাছ থেকে ফোনটি উদ্ধার করা হয়।
এদিকে স্থানীয়ভাবে তুহিনের পাশাপাশি আনাস ও ফাহিম নামে আরও দুইজনকে আটকের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও তদন্তের বিস্তারিত তথ্য পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের ভিত্তিতেই চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অপ্রতিমের জানাজায় অংশ নেওয়া শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অপ্রতিমের অকাল মৃত্যুতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছে তার পরিবার।
ছেলের জানাজায় অপ্রতিমের বাবা যে আকুতি জানিয়েছেন, ‘আর কাউকে যেন আমার মতো সন্তান হারাতে না হয়’ তা উপস্থিত মানুষের মধ্যেও গভীর আবেগের সৃষ্টি করে।