বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
টানা ভারি বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে একদিকে যেমন সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তৈরি হয়েছে তীব্র যানজট। ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ নগরবাসী।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে পল্টন, মালিবাগ, মৌচাক, কাকরাইল, নিউমার্কেট, মতিঝিলসহ রাজধানীর বিভিন্ন নিচু এলাকার সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও কোথাও সড়কে পানি জমে যাওয়ায় যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে।
মুগদা, খিলগাঁও, সবুজবাগ, গোড়ান, মানিকনগর, তালতলা, মতিঝিল, আরামবাগ, গুলিস্তান, পল্টন কালভার্ট রোড, মালিবাগ, মৌচাক ও কাকরাইল এলাকায় জলাবদ্ধতার চিত্র দেখা গেছে। অনেক সড়কে পানি এতটাই বেড়েছে যে রিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের চাকা প্রায় ডুবে যায়। পানির কারণে ফুটপাত দিয়েও স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে।
জলাবদ্ধ সড়কে বেশ কিছু সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। অনেক চালককে গাড়ি ও অটোরিকশা ঠেলে নিরাপদ স্থানে নিতে দেখা যায়। রিকশা ও ভ্যানচালকেরা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করলেও পানির গভীরতার কারণে অনেক সড়কে তারাও ঠিকমতো চলাচল করতে পারছেন না।
বৃষ্টির কারণে সকাল থেকে রাজধানীর সড়কে যানবাহনের উপস্থিতিও তুলনামূলক কম ছিল। জলাবদ্ধতার পানি দোকানপাটে ঢুকে পড়ার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীদের অনেকেই মালামাল দ্রুত উঁচু স্থানে সরিয়ে নেন।
রামপুরার বাসিন্দা মহিমা আক্তার বলেন, বৃষ্টির পর সড়কে পানি জমে যাওয়ায় সকাল থেকেই চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। যানবাহন ধীরগতিতে চলায় স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগছে। আবার রাস্তায় পানি থাকায় হেঁটেও গন্তব্যে যাওয়া কঠিন।
মৌচাক এলাকার পথচারী লিটন মাহমুদ বলেন, সড়কে পানি জমে থাকায় পায়ে হেঁটে চলাচলও কষ্টকর হয়ে উঠেছে। যানজটের কারণে সময়ও বেশি লাগছে। দ্রুত পানি সরানোর ব্যবস্থা করা দরকার।
মতিঝিল এলাকার পথচারী সাজেদুর রহমান জানান, ভোরের বৃষ্টির পরও বিভিন্ন সড়কে পানি জমে আছে। কিছু স্থানে হাঁটুপানি হওয়ায় অফিসপাড়ায় মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
সিএনজিচালক এরশাদ আলী বলেন, সকাল থেকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখেছেন। মতিঝিলেও এসে একই পরিস্থিতি দেখতে পেয়েছেন। পানির কারণে বেশ কয়েকটি সিএনজির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ার দৃশ্যও দেখেছেন তিনি।
এদিকে জলাবদ্ধতার মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সকাল থেকেই সড়কে দায়িত্ব পালন করছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। তবে পানি জমে থাকায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তারাও সমস্যায় পড়ছেন।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের সবুজবাগ জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মামুনুর রশীদ বলেন, বৃষ্টির পর মালিবাগ, মৌচাক, কাকরাইল হয়ে খিলগাঁও এলাকার বিভিন্ন সড়কে ব্যাপক জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সদস্যরা সড়কে কাজ করলেও পানির কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি জানান, পানি দ্রুত সরাতে সিটি করপোরেশনকে ম্যানহোলের ঢাকনা খুলে দেওয়া ও প্রয়োজনীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করার অনুরোধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সংস্থাটির মুখপাত্র রাসেল রহমান জানান, রোববার ভোর ৪টা থেকে বজ্রসহ ভারি বৃষ্টির কারণে ডিএসসিসির আওতাধীন কিছু নিচু ও ঢালু সড়কে সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে ভোর থেকেই পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম মাঠে কাজ করছে। ড্রেনেজ লাইনের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা অপসারণের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের কার্যক্রমও চলছে।
ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। দ্রুত পানি অপসারণ করে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে জলমগ্ন সড়কে চলাচলের সময় নগরবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে ডিএসসিসি। বিশেষ করে উন্মুক্ত বা ছিঁড়ে পড়া বৈদ্যুতিক তার, ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটি, ম্যানহোল ও খোলা ড্রেনের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
জরুরি প্রয়োজনে বা জলাবদ্ধতা সংক্রান্ত তথ্য জানাতে ডিএসসিসির নিয়ন্ত্রণ কক্ষে ০১৭০৯-৯০০৮৮৮ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। রোববার ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
রোববার সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। শনিবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
দেশের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রোববার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।