বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান
ধনী আইনজীবী হওয়ার চাতুর্যপূর্ণ শর্টকাট পথ থাকলেও ভালো ও দক্ষ আইনজীবী হতে হলে নিরবচ্ছিন্ন পড়াশোনা, অধ্যবসায় ও সততার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত ‘ল ফেস্ট’-এ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, "একজন ধনী আইনজীবী হওয়ার শর্টকাট উপায় রয়েছে—আর তা হলো ফিক্সিং অ্যান্ড ফক্সিং। কিন্তু একজন সত্যিকারের ভালো আইনজীবী হতে গেলে পড়াশোনা ও গভীর জ্ঞানের কোনো বিকল্প নেই।" আইনজীবীদের সমাজের ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, সমাজ প্রতিনিয়ত ভাঙাগড়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় এবং আইনজীবীরাই তাঁদের আইনি দিকনির্দেশনার মাধ্যমে সমাজকে সঠিক দিশা দেখান। তাই একজন আইনজীবীর প্রতিটি বক্তব্য, যুক্তি ও শব্দচয়ন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল হওয়া বাঞ্ছনীয়।
আইন পেশার সঙ্গে চিকিৎসকদের পেশাগত পার্থক্যের তুলনা করে তিনি বলেন, চিকিৎসকেরা চিকিৎসার ক্ষেত্রে মূলত নিজের স্বাধীন সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে পারেন। কিন্তু একজন আইনজীবীকে আদালতে দাঁড়িয়ে একইসঙ্গে বিচারক, প্রতিপক্ষের আইনজীবী, নিজ মক্কেল এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে কথা বলতে হয়। আইনকে নির্ভুলভাবে উপস্থাপন এবং তথ্য-উপাত্ত যথাযথভাবে চুলচেরা বিশ্লেষণ করার মতো কঠিন দায়িত্ব আইনজীবীর ওপরই বর্তায়।
পেশাগত জীবনের শুরুর দিকের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ক্যারিয়ারের শুরুতে অনেক তরুণ আইনজীবীকে দীর্ঘদিন নামমাত্র বা বিনাপারিশ্রমিকে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়। তবে দীর্ঘদিনের পড়াশোনা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার সমন্বয়ে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হয়, যখন কেবল উপস্থিতিই সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করে দেয়। নিজের ক্যারিয়ারের শুরুতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর অধীনে আয়কর মামলার কাজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রমে ব্রতী হওয়ার আহ্বান জানান।
আইন অঙ্গনকে দক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের সরকারি ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। নবীনদের নৈতিকতার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, কর্মজীবনে নানা প্রলোভন আসবে, কিন্তু সর্বদা সততার পথ বেছে নিতে হবে; কারণ আইনজীবী কেবল মক্কেলের রক্ষক নন, তিনি আদালতেরও একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা।
আইন সংস্কার প্রক্রিয়ায় তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী জানান, প্রচলিত কোনো আইনে অসঙ্গতি বা পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা চোখে পড়লে শিক্ষার্থীরা সরাসরি আইন মন্ত্রণালয়ে লিখিত প্রস্তাব বা খসড়া পাঠাতে পারেন, যা সরকার গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করবে। পরিশেষে দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরে শিক্ষার্থীদের ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করে আইনমন্ত্রী মানবাধিকার রক্ষা ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মকে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।