বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে জার্মানির একটি সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও জার্মানির দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে স্পিকার বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের প্রতি জার্মান সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্যও জার্মানি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, ১৯৩৭ সাল থেকে দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা ছিল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জিত হলেও কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা দীর্ঘদিন অধরা ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, পরপর তিনটি নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করেছে এবং এতে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গুম, হত্যাকাণ্ড, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে দেশে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জনগণ বারবার আত্মত্যাগ করেছে। তাদের দীর্ঘ সংগ্রাম ও দৃঢ়তার কারণেই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে।
বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন স্পিকার। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী এবং নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে তার অবদান রয়েছে।
বর্তমান সংসদে নারী প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি তুলে ধরে স্পিকার জানান, জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছয়জন নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন। পাশাপাশি সংরক্ষিত আসনে রয়েছেন আরও ৫০ জন নারী সংসদ সদস্য। তাদের সবাই উচ্চশিক্ষিত এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ-জার্মানি সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতির পরিধি বাড়ানো এবং বাংলাদেশে চলমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়।
জার্মানির ফেডারেল পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ বুন্দেস্ট্যাগের সদস্য নিকলাস কাপের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ছিলেন গেরোল্ড ওটেন, জোহান সাথফ ও উলে শাউস। ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজও বৈঠকে অংশ নেন।
এ সময় জার্মান দূতাবাসের প্রতিনিধি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।