বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি -ছবি : সংগৃহীত
দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) কার্যক্রম আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের পাশে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, একটি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য অনেকটাই নির্ভর করে তাদের খাদ্যাভ্যাস ও খাদ্যের মানের ওপর। তাই নিরাপদ খাদ্য সরবরাহের পাশাপাশি শিশুদের সঠিক খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন করা প্রয়োজন।
তিনি প্যাকেটজাত খাদ্য ও পানীয় সম্পর্কে ভোক্তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি খাদ্যপণ্যের গুণগত মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি জোরদারের পরামর্শ দেন।
খাদ্যপণ্যের মান পরীক্ষা করে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য উদ্বেগজনক উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা দরকার। বর্তমানে দেশের বিভাগীয় পর্যায়ে থাকা আটটি মোবাইল ল্যাব দিয়ে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। পর্যায়ক্রমে ৬৪ জেলায় মোবাইল ল্যাব স্থাপন করা গেলে ঘটনাস্থলেই খাদ্যের প্রাথমিক পরীক্ষা করা সম্ভব হবে এবং অনিয়ম শনাক্ত হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জন্য নিজস্ব ল্যাবরেটরি ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিজস্ব অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে সরকারি ব্যয় কমানোর পাশাপাশি আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন খাদ্য পরীক্ষাগার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। এজন্য উপযুক্ত স্থান নির্বাচন, প্রকল্প গ্রহণ ও অর্থায়নসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
খাদ্য পরীক্ষার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা দূর করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে খাদ্যপণ্যের মান দ্রুত ও নির্ভুলভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে।
মতবিনিময় সভায় বিএফএসএর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবিকে যৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে পর্যায়ক্রমে এসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার পাশাপাশি দেশের মানুষের কাছে নিরাপদ খাদ্য পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
বিদেশে প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের অর্জিত অভিজ্ঞতা দেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করাকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে বিএফএসএর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেন।
সভায় খাদ্যসচিব বলেন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ওপর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান সমস্যাগুলো ধাপে ধাপে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বর্তমান সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার এখন থেকেই নিশ্চিত করতে হবে।
মতবিনিময় সভায় পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কর্তৃপক্ষের সচিব শ্রাবস্তী রায়। সভাপতিত্ব করেন চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম। এ ছাড়া কর্মকর্তাদের মধ্যে তায়েফ আলী এবং কর্মচারীদের পক্ষে নূরন নবী বক্তব্য দেন।
এর আগে খাদ্যমন্ত্রী কর্তৃপক্ষের মিনি ল্যাব, মোবাইল ভ্যান ও ল্যাবরেটরি পরিদর্শন করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট ল্যাব অপারেটররা মন্ত্রীকে মিনি ল্যাবের কার্যক্রম, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা এবং খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে অবহিত করেন।