বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মিছিল ঠেকাতে ব্যর্থতার বিতর্কের মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। যে কোনো মূল্যে নিষিদ্ধ দলটির মিছিল ও অপতৎপরতা ঠেকাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট থানার ওসিদের জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে।
সোমবার ডিএমপির মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় থানার ওসিদের এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভা সূত্র জানায়, গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। গত শুক্রবার ওই মিছিলের মাত্র আট মিনিট আগে একটি গোয়েন্দা সংস্থা থেকে পুলিশ তথ্য পায় বলে সভায় জানানো হয়। তথ্য পাওয়ার পরই মিছিল ও দলটির কার্যক্রম ঠেকাতে উদ্যোগ নেয় গুলশান থানা পুলিশ।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ডিএমপির বিভিন্ন বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার, ক্রাইম বিভাগের উপকমিশনারসহ ৫০ থানার ওসি উপস্থিত ছিলেন। সভায় গত আগস্ট মাসে রাজধানীতে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় উপস্থিত এক কর্মকর্তা জানান, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল ঠেকানোর পাশাপাশি ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা বন্ধেও ওসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি কিংবা শৃঙ্খলাভঙ্গ বরদাশত করা হবে না বলেও সতর্ক করেন পুলিশ কমিশনার।
একাধিক কর্মকর্তা জানান, গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল এবং পুলিশের ওপর ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় কোনো একক পুলিশ কর্মকর্তাকে দায়ী করা হয়নি। তবে মিছিলের আগে কোথায় কোথায় তথ্যের ঘাটতি ছিল তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মিছিল শুরুর মাত্র আট মিনিট আগে তথ্য পাওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হয়।
ভবিষ্যতে রাজধানীর কোথাও যেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সংগঠিত হয়ে মিছিল বা কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় আবাসিক হোটেলসহ রাজধানীর বিভিন্ন হোটেলে অবস্থানরত অতিথিদের তালিকা নিয়মিত সংগ্রহ ও সংরক্ষণের নির্দেশও দেওয়া হয়। হোটেলগুলো থেকে অতিথিদের তথ্য সংগ্রহের কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অপরাধীরা যাতে ঢাকায় এসে অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজধানীর প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্লক চেকসহ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেন তিনি।
সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপরাধ সংঘটনের আগেই তাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সভা সূত্র আরও জানায়, সম্প্রতি তেজগাঁও থানায় পরিদর্শনে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থানার ওসিকে পাননি। একইভাবে পল্টন থানায় গিয়ে আইজিপি আলী হোসেন ফকির ও ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিনও ওসির অনুপস্থিতি দেখতে পান। পরে তেজগাঁও থানার ওসি ক্যশৈন্যু মারমা এবং পল্টন মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খানকে প্রত্যাহার করা হয়।
ওসিদের অনুপস্থিতির এসব ঘটনা সামনে রেখে সভায় থানায় অবস্থান করে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পুলিশ কমিশনার বলেন, ডিউটির সময় থানায় অবস্থান করে গুরুত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং নির্ধারিত পোশাক পরতে হবে। থানার পরিবেশ ও পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়।
জরুরি প্রয়োজনে থানার বাইরে যেতে হলে সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) নোট করে পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া থানার এলাকাগুলো ভাগ করে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়। কোনো এলাকায় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শূন্যতা তৈরি করা যাবে না এবং দায়িত্ব পালনে কোনো ঘাটতি রাখা যাবে না বলে জানানো হয়।
অপরাধ প্রতিরোধে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি), গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা পুলিশকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।