বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ -ছবি : সংগৃহীত
আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। শিগগিরই এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা জানান।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এর আগে যদি স্থানীয় সরকার নির্বাচন-সংক্রান্ত আইন পরিবর্তন না হয়, তাহলে বর্তমান আইন অনুসরণ করেই নির্বাচন পরিচালনা করা হবে।
তফসিল ঘোষণার নির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো সময়সীমা উল্লেখ না করে জানান, খুব শিগগিরই কমিশনের পক্ষ থেকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।
এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছিলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। চলতি সেপ্টেম্বরেই এ নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রকাশের কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
তখন তিনি বলেছিলেন, প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আয়োজন করা হবে। সেটি একটি পর্যায়ে এগিয়ে গেলে পর্যায়ক্রমে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
ইউপি নির্বাচনের তফসিল কবে হতে পারে এ বিষয়ে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছিলেন, সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন নিয়ে বেশ কিছু বিষয় পরিষ্কার হবে। কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে ইউপি নির্বাচনের তফসিল সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হতে পারে—এমন আভাসও দিয়েছিলেন এই নির্বাচন কমিশনার।
নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা, বৃত্তি পরীক্ষা ও টেস্ট পরীক্ষাসহ নানা কার্যক্রম থাকে। নির্বাচনে এসব প্রতিষ্ঠানকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং শিক্ষকরাই প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন।
এ কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার সময় এড়িয়ে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে ইসি। তবে যেসব নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিরাপত্তা ও ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় এবার সব ভোটকেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার কথা জানিয়েছে ইসি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত চলাচল ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ড্রোন ব্যবহারের পাশাপাশি বডি-ওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
এ ছাড়া নির্বাচনের সময় অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি মোকাবিলায়ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কমিশন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আচরণবিধিতে কিছু কঠোর বিধান রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে ভিআইপিদের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়া ঠেকাতে বিধান রাখা হচ্ছে।
পাশাপাশি পচনশীল নয় এমন প্রচারসামগ্রী ও পোস্টারের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংশোধিত আচরণবিধি নিয়ে শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে ইসি জানিয়েছে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক নির্বাচনে প্রার্থী হলে তার সহকর্মীরা প্রচারে যুক্ত হওয়ার কারণে ভোটকেন্দ্রে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা এবং নির্বাচনে শিক্ষকদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার স্বার্থে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে একটি পর্যবেক্ষণ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
সব মিলিয়ে ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে ইসি। ধাপে ধাপে অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনও আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।