বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
দেশে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান; বিশেষ করে যেসব কৃষিপণ্য দেশের মাটিতে ফলানো সম্ভব, সেগুলোর উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়াতে কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কঠোর তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, দেশে ফলানো সম্ভব এমন সব ধরনের কৃষি ও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে আমদানির ওপর নির্ভরতা পর্যায়ক্রমে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হবে। আর এ লক্ষ্য অর্জনে আধুনিক কৃষি গবেষণা, উচ্চফলনশীল জাত, লাগসই প্রযুক্তি, উন্নত সেচ সুবিধা এবং কৃষি যান্ত্রিকীকরণের সুফল কালবিলম্ব না করে দ্রুততম সময়ে প্রান্তিক কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে সামগ্রিক দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধিতে জোরদার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, দেশের আপামর জনসাধারণের টেকসই খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষি পেশাকে কৃষকের কাছে আরও বেশি উৎপাদনশীল, লাভজনক ও অর্থনৈতিকভাবে মর্যাদাপূর্ণ করে তুলতে হবে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিজ কার্যালয় থেকে পায়ে হেঁটে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে গিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী; এ সময় তিনি লিফট ব্যবহার না করে সরাসরি সিঁড়ি বেয়ে সম্মেলন কক্ষে প্রবেশ করেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ)।
উক্ত পর্যালোচনা সভায় দেশের কৃষিখাতের বর্তমান সামগ্রিক পরিস্থিতি, মন্ত্রণালয়ের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার সার্বিক চিত্র বিস্তারিতভাবে প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা হয়।
ভোজ্য তেলের আমদানি নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে দেশীয় সরিষার উৎপাদন বৃদ্ধির পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে সরিষার মোট উৎপাদন ছিল ৮ দশমিক ২৪ লাখ মেট্রিক টন। সরকারের কার্যকর পৃষ্ঠপোষকতায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা একলাফে বেড়ে দাঁড়ায় ১৫ দশমিক ৩৪ লাখ টনে এবং সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা আরও বৃদ্ধি পেয়ে ১৫ দশমিক ৪১ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে।
সভায় পেঁয়াজের বার্ষিক উৎপাদন ও মাঠপর্যায়ে সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর নানামুখী পদক্ষেপের কথাও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সাধারণ কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ পচনরোধে আধুনিক ‘এয়ার-ফ্লো’ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং অফ-সিজনে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জাত ছড়িয়ে দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সাথে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় উপকূলীয় লবণাক্ততা, খরা ও আকস্মিক জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু নতুন নতুন ফসলের উন্নত জাত দ্রুত মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
জাতীয় কৃষি গবেষণার অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রণালয় জানায়, গবেষণার মাধ্যমে বিভিন্ন ফসলের এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৯০টি উন্নত জাত উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়েছে, যার মধ্যে শুধু উচ্চফলনশীল ধানের জাতই রয়েছে ১৫৫টি। এছাড়া এক হাজারের বেশি আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের বিশদ বিবরণ সভায় পেশ করা হয়।
কৃষি উৎপাদনে অতিরিক্ত শারীরিক শ্রম ও চাষের ব্যয় কমিয়ে একরপ্রতি উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়াতে আধুনিক কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি বৈঠকে আলোচিত হয়। নিজস্ব প্রযুক্তিতে দেশীয় কৃষিযন্ত্র উদ্ভাবন ও স্থানীয় কারখানাগুলোতে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার, রাইস ট্রান্সপ্লান্টারসহ অত্যাধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি প্রান্তিক কৃষকের কাছে সাশ্রয়ী ও সুলভমূল্যে পৌঁছে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। বর্তমানে দেশে মোট ২ হাজার ৬১৭টি সোলার বা সৌরচালিত সেচব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে উল্লেখ করে কর্মকর্তারা জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর সেচ ব্যবস্থার পরিধি বাড়ানো সম্ভব হলে কৃষকের সেচ বাবদ খরচ নাটকীয়ভাবে কমে আসবে এবং জীবাশ্ম জ্বালানি তেলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বহুলাংশে হ্রাস পাবে।
কৃষকদের মাঝে সরকারি সকল আর্থিক প্রণোদনা ও সহায়তা কোনো ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়া সরাসরি পৌঁছে দিতে প্রস্তাবিত ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি চালুর বিষয়টি বৈঠকে বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। কৃষি মন্ত্রণালয় আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের মোট ৪৩ লাখ সক্রিয় কৃষককে এই ডিজিটাল কৃষক কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে; যার প্রাথমিক পর্যায়ে ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কৃষকের হাতে কার্ড তুলে দেওয়ার প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
বৈঠকে আধুনিক কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, সৌর সেচের আওতা বৃদ্ধি, পানি সংকট নিরসনে খালখনন, বৃক্ষরোপণ অভিযান এবং কৃষিপণ্যের বৈজ্ঞানিক সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী কৃষির ফলনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি যে কোনো মূল্যে কৃষকের উৎপাদন খরচ হ্রাস এবং উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য ও লাভজনক বাজারমূল্য নিশ্চিতের প্রতি সর্বোচ্চ নজর দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের নির্দেশ দেন।