বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম
বাংলাদেশের উদীয়মান ও সম্ভাবনাময় শিল্পখাতগুলোতে ফ্রান্সের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ফরাসি বাজারে বাংলাদেশি বহুমুখী পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত ও বিস্তৃত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ফ্রান্সের তিন সদস্যবিশিষ্ট উচ্চপর্যায়ের এক সিনেটর প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান বলে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সফররত ফরাসি প্রতিনিধি দলে ছিলেন সিনেটর গিয়োম শেভ্রিয়ে, পিয়ের-আলাঁ রোয়ারোঁ এবং অলিভিয়ে হেনো। তিন দিনের সরকারি সফরে শনিবার রাতে তাঁরা ঢাকায় পৌঁছান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে এবং ঢাকায় অবস্থিত ফরাসি দূতাবাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ক্রিশ্চিয়ান বেক সিনেটরদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে দুই দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করে বাংলাদেশ-ফ্রান্স দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বহুমুখী দিক নিয়ে বিশদ ও ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিনিধি দলকে আন্তরিক স্বাগত জানিয়ে শামা ফরাসি সিনেটের সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ককে আরও সংহত ও অর্থবহ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ ক্ষেত্রে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ)-এর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় পারস্পরিক সংসদীয় যোগাযোগ জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
শামা ওবায়েদ ঐতিহ্যবাহী তৈরি পোশাকের গণ্ডি পেরিয়ে ফ্রান্সে বাংলাদেশের রপ্তানি ঝুড়ি বহুমুখীকরণের সুনির্দিষ্ট আগ্রহের কথা জানান। বিশেষ করে বিশ্বমানের বাংলাদেশি ওষুধ শিল্প, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, উন্নত সিরামিক সামগ্রী এবং পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণে ফরাসি সহযোগিতার আহ্বান জানান। একই সাথে এসব সম্ভাবনাময় উৎপাদনশীল খাতে ফরাসি উদ্যোক্তাদের সরাসরি যৌথ বা একক বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রস্তাব দেন তিনি।
বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক রূপান্তর এবং সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ফ্রান্সের অবিচল ও ধারাবাহিক সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, আধুনিক উচ্চশিক্ষা, সাংস্কৃতিক বিনিময়, শ্রম অভিবাসন এবং দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানাবিধ ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্বের পরিধি আরও বহুগুণে বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশি শ্রমশক্তির কারিগরি ও বৃত্তিমূলক দক্ষতা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে উভয় পক্ষ অভিন্ন ঐকমত্য পোষণ করে। শামা ওবায়েদ ইউরোপের দেশটিতে বৈধ ও নিয়ন্ত্রিত অভিবাসনের মাধ্যমে দক্ষ শ্রমিক চলাচলের কার্যকর ক্ষেত্র তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে অবৈধ অভিবাসন এবং মানবপাচারের মতো বৈশ্বিক অপরাধের বিরুদ্ধে বর্তমান বাংলাদেশের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা দ্ব্যর্থহীনভাবে পুনর্ব্যক্ত করে তিনি অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে ফরাসি কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করার ব্যাপারে ঢাকার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
আলোচনাকালে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক বিষয়েও উভয় পক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময় করে। এর মধ্যে বৈশ্বিক পরিবেশ বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং বহুপক্ষীয় কূটনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার বিষয়গুলো বিশেষভাবে স্থান পায়। উভয় পক্ষই আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে পারস্পরিক স্বার্থ সুরক্ষায় একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
দুই দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিরাই গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধি দলের পারস্পরিক সফর বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যকার কূটনৈতিক গতিশীলতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং উভয় দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক মৈত্রী ও উন্নয়ন অংশীদারিত্বকে আরও বহুমাত্রিক ও টেকসই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করবে।