বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির
ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ককে সম্পূর্ণ নতুনভাবে ‘পুনঃস্থাপন’ (রিসেট) করতে চায় বাংলাদেশ এবং সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও গঠনমূলক দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী ঢাকা; এমনটাই স্পষ্ট করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি নতুন সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। এটি কোনো বহুপক্ষীয় ফোরামের মাধ্যমে নয়, বরং সরাসরি দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই হওয়া উচিত।’
হুমায়ুন কবির মন্তব্য করেন, ভারতের প্রতি অতিরিক্ত মোহগ্রস্ত থাকার পুরনো মানসিকতা থেকে বাংলাদেশকে অবশ্যই বেরিয়ে আসতে হবে এবং বিশ্বের অন্যান্য স্বাধীন রাষ্ট্রের সঙ্গে যেভাবে সম্পর্ক পরিচালিত হয়, ঠিক একইভাবে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক মূল্যায়ন করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের ভারত-মোহ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ভারত আর দশটি দেশের মতোই একটি দেশ এবং বাংলাদেশ তার সঙ্গে ভালো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক চায়।’
বিগত ১৫ বছরে ‘কর্তৃত্ববাদী, দুর্নীতিগ্রস্ত ও শোষণমূলক’ শাসনামলে ভারতের সঙ্গে বিরাজমান সম্পর্ক অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও অসম ছিল উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেই প্রেক্ষাপট পেছনে ফেলে ঢাকা এখন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মর্যাদাপূর্ণ ও নতুন অধ্যায় উন্মোচন করতে চায়।
দ্বিপক্ষীয় সফর ও বহুপক্ষীয় সম্পৃক্ততা নিয়ে নিজের আগের বক্তব্যের বিশদ ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি জানান, তাঁর ওই পর্যবেক্ষণগুলো বিশেষভাবে ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য ছিল।
তিনি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমি যা বলেছিলাম, তা মূলত ভারতের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আমরা ভারতের সঙ্গে একটি বাস্তবসম্মত, মর্যাদাপূর্ণ ও কার্যকর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই।’
হুমায়ুন কবির বিশ্লেষণ করে বলেন, বাংলাদেশ যখন কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন কিংবা আরও সংহত করতে চায়, তখন প্রাথমিক কূটনৈতিক যোগাযোগ কোনো বহুপক্ষীয় সম্মেলনের ফাঁকে সংক্ষিপ্ত সাইডলাইন বৈঠকের বদলে একটি সুনির্দিষ্ট দ্বিপক্ষীয় সফরের মাধ্যমেই হওয়া সবচেয়ে ফলপ্রসূ ও আদর্শ।
‘এটি শুধু ভারতের প্রেক্ষাপটেই বলা হয়েছিল। আমি কখনোই বলিনি যে আন্তর্জাতিক বা বহুপক্ষীয় কোনো সম্মেলনে অংশ নিলে আমরা অন্য কোনো দেশের প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করব না,’ যোগ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও পরিষ্কার করেন যে, জাতীয় স্বার্থ ও কূটনৈতিক প্রয়োজন অনুযায়ী আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামের সম্মেলনের পাশাপাশি অন্যান্য বন্ধুভাবাপন্ন দেশের সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠক অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সাম্প্রতিক নানা অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনা ও প্রাণহানির ঘটনাবলি সম্পর্কে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক চ্যানেলের কার্যকর ব্যবহারের মধ্য দিয়েই ঢাকা এসব জটিল সমস্যার যৌক্তিক সমাধান নিশ্চিত করবে।
তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘আমরা কার্যকর কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই এসব অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান করব।’
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন, বিদ্যমান সীমান্ত প্রটোকল এবং দ্বিপক্ষীয় সকল চুক্তি অক্ষরে অক্ষরে সমুন্নত রেখে বাংলাদেশ উপযুক্ত সকল আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে ভারতের কাছে নিজের গভীর উদ্বেগের বিষয়গুলো জোরালোভাবে উপস্থাপন করবে বলে জানান হুমায়ুন কবির।
এদিকে ভারতের সঙ্গে অতীতে স্বাক্ষরিত ১০১টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নতুন করে পর্যালোচনার খবর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের স্বার্থ সুরক্ষায় এ সকল দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা বর্তমানে সুনির্দিষ্ট সংসদীয় প্রক্রিয়ার আওতায় পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই ও পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে।