বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত
২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার জাতীয় লক্ষ্যকে সামনে রেখে দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতকে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কুর্মিটোলার ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ শীর্ষক এক পলিসি কনক্লেভে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিমানবন্দর হচ্ছে একটি দেশের প্রতিচ্ছবি এবং বিগত সরকারগুলোর রেখে যাওয়া ভঙ্গুর ও বিশৃঙ্খল অবস্থা দূর করে আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে সরকার সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বাস্তবায়নে প্রস্তুত। একটি পূর্ণাঙ্গ হাব প্রতিষ্ঠার জন্য আধুনিক টার্মিনাল ছাড়াও দ্রুততম সময়ে যাত্রী ও কার্গো হ্যান্ডলিং এবং নিজস্ব রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত (এমআরও) সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।
এভিয়েশন ব্যবসাকে সহজতর ও গতিশীল করতে সরকার দীর্ঘ ৪২ বছর পর বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালায় সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানান পর্যটনমন্ত্রী। এয়ারলাইন্সগুলোর পরিচালনগত বাধা দূর করতে নতুন বিধি প্রণয়নে সরাসরি বেসরকারি এয়ারলাইন্স প্রতিনিধিদের মতামত যুক্ত করা হবে। মন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, বিমানের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও জটিল যন্ত্রাংশ মেরামতের জন্য বর্তমানে দেশের এয়ারলাইন্সগুলোকে বিপুল অর্থ ব্যয় করে ভারত ও সিঙ্গাপুরে যেতে হয়, যা অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে দেশেই সমাধান করতে সিভিল এভিয়েশন আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হচ্ছে।
এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিগত সরকারের বাতিল করা প্রায় ২.১ বিলিয়ন ডলারের এই মেগা প্রকল্পটি বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জাপানের সঙ্গে পাঁচটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে পুনরায় কার্যকর করেছে। টার্মিনালটি পুরোপুরি চালু হলে শাহজালাল বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বর্তমানের ১ কোটি ২০ লাখ থেকে বেড়ে ২ কোটি ৪০ লাখের বেশিতে দাঁড়াবে। একই সঙ্গে ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ফলে লাগেজ পাওয়ার অপেক্ষার সময় দেড়-দুই ঘণ্টা থেকে কমিয়ে গড়ে ৪০ মিনিটে নামিয়ে আনা হয়েছে এবং নিরাপত্তা কর্মীদের জন্য বডি ওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার চালু করা হয়েছে।
সম্মেলনে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, কেবল আন্তর্জাতিক মানের দৃষ্টিনন্দন বিমানবন্দর নির্মাণ করলেই হাব হওয়া সম্ভব নয়, এজন্য দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও তাদের জন্য পরিচালন ব্যয় কমানো অত্যন্ত জরুরি। তিনি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা সৃষ্টি, জেট ফুয়েলের মূল্য হ্রাস এবং অতিরিক্ত শুল্ক ও কর কমানোর আহ্বান জানান।
তিনি আরও জানান, নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স আগামী বছরগুলোতে লিজিং ও অর্থায়নের মাধ্যমে প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, সাবেক বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মাহমুদ হোসেন এবং টোটাল এয়ার সার্ভিসেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান কে এম মুজিবুল হক।