বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ -ছবি : সংগৃহীত
প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন এমনভাবে তৈরি করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এর কোনো ধারা ব্যবহার করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বা কারও মতপ্রকাশের অধিকার বাধাগ্রস্ত করার সুযোগ না থাকে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ।
তিনি বলেন, অতীতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন আইনের অপব্যবহার করে সংবাদমাধ্যমকে চাপে রাখার অভিযোগ উঠেছিল। নতুন আইন প্রণয়নের সময় অতীতের সেই অভিজ্ঞতা বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত কমিটির সভার শুরুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী জানান, সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া এখনো প্রণয়ন ও পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। কোনো শব্দ বা ধারার একাধিক ব্যাখ্যার সুযোগ থাকলে ভবিষ্যতে সেটি অপব্যবহারের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। এ কারণে প্রতিটি বিষয় সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, গত ১৭ থেকে ২০ বছরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন আইনের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ বা ভয় দেখানোর অভিজ্ঞতা হয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন যাতে পরবর্তীতে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা না যায়, সেটিই নিশ্চিত করতে চায় সরকার।
আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, প্রস্তাবিত আইনের খসড়া নিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পরবর্তী ধাপেও তাদের মতামত নেওয়া হবে।
আইনের কোনো শব্দ বা ধারার ব্যাখ্যার সুযোগ কাজে লাগিয়ে যাতে সাংবাদিক, গণমাধ্যম কিংবা সাধারণ মানুষের ওপর নিপীড়ন চালানো না যায়, সে বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সাইবার সুরক্ষা আইনের অন্যতম লক্ষ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জননৈতিকতা ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অনলাইন পরিবেশকে নিরাপদ করাও সরকারের উদ্দেশ্য।
তার মতে, ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে গালাগাল, অশালীন ভাষা ও আপত্তিকর কর্মকাণ্ড বাড়ছে। এসব বিষয় কীভাবে আইনের আওতায় আনা যায় এবং একই সঙ্গে মানুষের মতপ্রকাশের অধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যায় তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে যেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে কোনো সংঘাত তৈরি না হয় সে বিষয়টিই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার স্পষ্টভাবে আশ্বস্ত করতে চায় প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কণ্ঠরোধ কিংবা নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে না।
অতীতে আইনের যে ধরনের অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল, নতুন আইনে যেন তার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেদিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আইনের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তথ্যমন্ত্রীর মতে, কোনো কনটেন্ট দেখার সঙ্গে সঙ্গে যাচাই-বাছাই না করে শেয়ার করা, মানহানিকর বক্তব্য প্রচার বা অন্যের প্রকাশিত মানহানিকর কনটেন্ট পুনঃপ্রচার করাও নানা সমস্যার কারণ হতে পারে।
এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে একটি কর্মসূচি নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মসূচিতে সংবাদমাধ্যমসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে বলে জানান তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, এমন একটি আইন প্রণয়ন করাই সরকারের লক্ষ্য যেখানে একদিকে সাইবার পরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে অন্যদিকে মানুষের মর্যাদা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারও সুরক্ষিত থাকবে।