বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, এসজিপি, বিএএম, এনডিইউ, এএফডব্লিউসি, পিএসসি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর কাছে তুলে ধরেন -ছবি : সংগৃহীত
ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ডসহ আকস্মিক দুর্যোগ মোকাবিলায় রাজধানী ঢাকায় এক লাখ প্রশিক্ষিত শহর প্রতিরক্ষা দল (টিডিপি) স্বেচ্ছাসেবী সদস্যকে প্রস্তুত রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগের মুহূর্তে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত সাড়া দেওয়া, উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ বিতরণ ও মানবিক সহায়তায় এসব স্বেচ্ছাসেবী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, এসজিপি, বিএএম, এনডিইউ, এএফডব্লিউসি, পিএসসি এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর কাছে তুলে ধরেছেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে আনসার-ভিডিপি মহাপরিচালক বাহিনীর সংস্কার, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি রাজধানীকেন্দ্রিক এই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার কথা জানান।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষের বসবাসের রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড, জোন ও থানা এলাকায় প্রশিক্ষিত টিডিপি স্বেচ্ছাসেবীদের প্রস্তুত রাখা হবে। আনসার-ভিডিপির ডিজিটাল ডাটাবেজে এসব সদস্যের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। দুর্যোগ দেখা দিলে নির্ধারিত এলাকায় দ্রুত মোতায়েন করে তাদের ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’ হিসেবে কাজে লাগানো হবে।
শুধু মৌলিক প্রশিক্ষণ নয়, প্রস্তাবিত এক লাখ স্বেচ্ছাসেবীকে ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন ধরনের আকস্মিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশেষায়িত ও উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এর মাধ্যমে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় পর্যায়ে একটি কার্যকর দুর্যোগ সাড়াদান সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগের পরপরই প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন।
দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এ কর্মপরিকল্পনার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে আনসার-ভিডিপি মহাপরিচালক বাহিনীর চলমান সংস্কার কার্যক্রম, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগ সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন দুর্যোগে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের ভূমিকার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
মহাপরিচালক জানান, উপকূলীয় এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যা ও অন্যান্য দুর্যোগে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মরত আনসার-ভিডিপি সদস্যরা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সাড়া, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং মানবিক সহায়তার কাজে অংশ নিচ্ছেন।
বৈঠকে উপকূলীয় ও পার্বত্য অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বাস্তবায়নাধীন ‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর পরিবেশ সহনশীলতা এবং অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি’ প্রকল্পের অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়।
প্রকল্পের আওতায় শিগগির বাগেরহাট, দিনাজপুর, বরগুনা ও রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় ভিডিপি সদস্যদের জন্য পরিবেশবান্ধব প্ল্যান্ট, রেইনওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম এবং রিভার্স অসমোসিস (আরও) সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাম্প্রতিক উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগের প্রশংসা করেন দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন করতে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের ভূমিকার জন্য তিনি বাহিনীর মহাপরিচালককে ধন্যবাদ জানান।
দুর্যোগ মোকাবিলায় আনসার-ভিডিপির সদস্যদের আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। দুর্যোগের আগাম প্রস্তুতি, দ্রুত সাড়া, প্রশমন, উদ্ধার কার্যক্রম এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মন্ত্রী দেশের যেকোনো দুর্যোগে মাঠপর্যায়ে থাকা আনসার-ভিডিপি সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সর্বাত্মক সহযোগিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রস্তাবিত এক লাখ স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একটি প্রশিক্ষিত ও সমন্বিত দুর্যোগ সাড়াদান নেটওয়ার্ক তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ডসহ আকস্মিক দুর্যোগের পরপরই স্থানীয় পর্যায়ে উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম আরও দ্রুত পরিচালনা করা সম্ভব হবে।