বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
ছবি ছাড়া বায়োমেট্রিক ফিচার ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির সুযোগ চেয়ে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির ক্ষেত্রে ছবি থাকা বাধ্যতামূলকই থাকছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী বলেন, আদালত রুলটি খারিজ করে দিয়েছেন। এর ফলে ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির সুযোগ থাকছে না।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শেখ ওমর শরীফ ও ইলিয়াছ আলী মন্ডল। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী।
রাজধানীর শাহজাহানপুর শান্তিবাগের বাসিন্দা সুমাইয়া আহমাদ মুনা ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী পর্দা করেন উল্লেখ করে ২০২২ সালে এ বিষয়ে রিট আবেদন করেন। রিটে তার স্বামী মুহম্মদ আরিফুর রহমানকে অথরিটি দেওয়া হয়।
এর আগে ওই বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেন সুমাইয়া আহমাদ মুনা। আবেদনে তিনি জানান, তিনি প্রাপ্তবয়স্ক ও পর্দানশীন মুসলিম নারী এবং শরিয়তের বিধান অনুসরণ করেন। এ কারণে কোনো ধরনের ছবি তোলা থেকে বিরত থাকেন। ছবি না থাকায় তার জাতীয় পরিচয়পত্রও হয়নি। ফলে বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করেন তিনি।
এ অবস্থায় ছবি ছাড়া বিকল্প কোনো পদ্ধতিতে জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেন তিনি। তবে সেই আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়ায় পরে হাইকোর্টে রিট করেন।
রিটের শুনানি নিয়ে ২০২২ সালের ৬ মার্চ হাইকোর্ট রুল জারি করেন। সেখানে ছবি ছাড়া বিকল্প পরিচয় ব্যবস্থায় বা বায়োমেট্রিক ফিচার ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।
দীর্ঘ শুনানি শেষে বুধবার সেই রুল খারিজ করে দেন হাইকোর্ট।
রুল জারির সময় রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানিয়েছিল, ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার দাবি সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিভিন্ন সরকারি ও আর্থিক সেবার ক্ষেত্রেও পরিচয় নিশ্চিত করতে ছবি প্রয়োজন হয় বলে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি দেয়।
রাষ্ট্রপক্ষ আরও বলেছিল, হজ পালনের ক্ষেত্রেও ছবি তোলার প্রয়োজন হয়। ব্যাংক হিসাব খোলা কিংবা আর্থিক লেনদেনের সময় পরিচয় নিশ্চিত করার জন্যও ছবি ও বায়োমেট্রিক তথ্য প্রয়োজন। এ ছাড়া বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে চোখের আইরিশের তথ্য নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে যার জন্য পর্দা সরাতে হবে এমন যুক্তিও আদালতে তুলে ধরা হয়েছিল।