বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম -ছবি : সংগৃহীত
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন পাস হওয়ায় গুমের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের বিচার পাওয়ার সুযোগ আগের তুলনায় বিস্তৃত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। নতুন আইনে গুমের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা থাকায় ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচারের পথ আরও প্রসারিত হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।
মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য কাউকে গ্রেপ্তার বা আটক করার পর তার অবস্থান গোপন করলে, অজ্ঞাত কোনো স্থানে আটকে রাখলে অথবা আইনের সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করলে সেটি গুম হিসেবে বিবেচিত হবে।
তবে কোনো গুমের ঘটনা যদি ব্যাপক কিংবা পদ্ধতিগতভাবে সংঘটিত হয় তাহলে তা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের অপরাধের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এর আগে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার নিয়ে অধ্যাদেশ থাকলেও সেটির কার্যকর প্রয়োগ তেমন দেখা যায়নি। ওই আইনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর কিছু দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সে সময় কমিশন কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারায় আইনের প্রত্যাশিত প্রয়োগ হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নতুন আইনের ৩৩ ধারার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি জানান, গুমের কোনো মামলা বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন থাকলে সেটি সেখানেই নিষ্পত্তি হবে। অন্যদিকে সেশন কোর্ট কিংবা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চলমান কোনো মামলায় তদন্ত বা বিচারকাজের সময় ঘটনা ব্যাপক ও পদ্ধতিগত মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়লে সেটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা যেতে পারে।
এ ছাড়া পুলিশের তদন্ত চলাকালীন কোনো ঘটনায় ব্যাপক ও পদ্ধতিগত মানবতাবিরোধী অপরাধের উপাদান পাওয়া গেলেও তা ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা অথবা চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ও অন্য আদালতে চলমান এমন মামলা ট্রাইব্যুনালে এনে বিচারের উদ্যোগ নিতে পারবে।
ইতোমধ্যে ট্রাইব্যুনালে জমা পড়া ও তদন্তাধীন গুমের অভিযোগগুলো নতুন আইনের আলোকে ধাপে ধাপে পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানান চিফ প্রসিকিউটর। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যেসব অভিযোগ ‘এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স’ বা ব্যাপক ও পদ্ধতিগত অপরাধের সংজ্ঞার আওতায় পড়বে, সেগুলোর বিচার ট্রাইব্যুনালে হবে। আর অন্যান্য গুমের ঘটনা সংশ্লিষ্ট আদালতে স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে বিচার করা হবে।
বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি ও ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আইন ও রুলস অব প্রসিডিউরে এ বিষয়ে বিধান থাকলেও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। বিষয়টি পরিষ্কার করতে রুলস অব প্রসিডিউর সংশোধন করে বিস্তারিত বিধান যুক্ত করা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা আবুল কালাম আযাদের আপিল প্রসঙ্গেও কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১(৩) ধারায় রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার বিধান রয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে আসামির আপিল গ্রহণযোগ্য হবে না।
তার দাবি, আবুল কালাম আযাদের আপিল এখনো গ্রহণ করা হয়নি। ফলে নির্ধারিত ৩০ দিনের সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পর তার আর আপিলের সুযোগ নেই এবং ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই।
সরকারের সাজা স্থগিত বা কমানোর ক্ষমতার বিষয়ে তিনি বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় সরকারের এ ধরনের ক্ষমতা রয়েছে। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবুল কালাম আযাদকে আপিলের শর্তে আত্মসমর্পণের যে সুযোগ দিয়েছিল, তা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর ২১(৩) ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য, কোনো নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বিশেষ আইনের বিধানকে অতিক্রম করা সম্ভব নয়।