বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
দুই দিনের সরকারি সফর শেষে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও ছেড়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার গ্রহণের পর হেলিকপ্টারে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি। এরপর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠের হেলিপ্যাডে পৌঁছে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন। প্রটোকল অনুযায়ী তাঁর দুপুর ২টা ১০ মিনিটে রওনা হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের প্রায় ২০ মিনিট আগেই তিনি ঠাকুরগাঁও ত্যাগ করেন।
এ সময় জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন এবং নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজক কমিটির সদস্যরা রাষ্ট্রপতিকে বিদায় জানান।
এর আগে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৫৮ মিনিটে হেলিকপ্টারে করে ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলায় এটিই ছিল তাঁর প্রথম সরকারি সফর।
ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছানোর পর জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজক কমিটির প্রতিনিধিরা তাকে স্বাগত জানান। পরে জেলা সার্কিট হাউসে গিয়ে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন তিনি।
সফরের শুরুতেই রাষ্ট্রপতি শহরের সেনুয়া কবরস্থানে গিয়ে তার মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন। এরপর কালীবাড়ি এলাকায় নিজের বাসভবনে যান। সেখানে মধ্যাহ্নভোজ শেষে কিছু সময় বিশ্রাম নেন।
রোববার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত গণসংবর্ধনায় অংশ নেন রাষ্ট্রপতি। তাকে স্বাগত জানাতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে সমবেত হন। বৃষ্টি উপেক্ষা করেও অনেকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন রাষ্ট্রপতিকে একনজর দেখার জন্য।
গণসংবর্ধনায় স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়। এতে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নিজ জেলার মানুষের এই ভালোবাসায় রাষ্ট্রপতিও ঠাকুরগাঁওবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে বাসভবনে ফিরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। রাতটি নিজ বাসভবনেই কাটান রাষ্ট্রপতি।
সোমবার সফরের দ্বিতীয় ও শেষ দিনে সকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রাষ্ট্রপতি। পরে ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় প্রস্তাবিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়টি যথাযথভাবে গড়ে তোলা এবং এর উন্নয়ন কার্যক্রমে স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও আবেগের বিষয়টিও গুরুত্ব পায় অনুষ্ঠানে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে দুপুরে নিজ বাসভবনে ফিরে খাবার গ্রহণ ও বিশ্রাম নেন রাষ্ট্রপতি। পরে জেলা সার্কিট হাউসে গিয়ে আবারও গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন। সেখান থেকে মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠের হেলিপ্যাডে পৌঁছে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে ঠাকুরগাঁওজুড়ে নেওয়া হয়েছিল ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা। স্টেডিয়াম মাঠ, জেলা সার্কিট হাউস, সেনুয়া কবরস্থান, রাষ্ট্রপতির বাসভবন, গণসংবর্ধনার স্থান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এলাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে এসব এলাকায় বাড়ানো হয় নজরদারি।
দুই দিনের সফরকে ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। রাষ্ট্রপতিকে দেখতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ শহরে আসেন। বিশেষ করে গণসংবর্ধনা এবং ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
উল্লেখ্য, গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। নির্বাচনে তিনি জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে পরাজিত করেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় সংসদ সদস্য, বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি এসব পদ থেকে পদত্যাগ করেন।