বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

সচিবালয়ে ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তনিও আলেসান্দ্রো'র সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম -ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক বৈধভাবে ইতালিতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। পরিবারসহ এ সুযোগের আওতায় যাওয়ার সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার হতে পারে বলেও জানান তিনি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তনিও আলেসান্দ্রো সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও সচিব মো. শহিদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতালিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি অনিয়মিতভাবে বসবাস করছেন। দেশটিতে থাকা প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশির মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের বাড়ি শরীয়তপুর ও মাদারীপুর অঞ্চলে।
সমুদ্রপথে ঝুঁকি নিয়ে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার প্রবণতা কমাতে শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও ফরিদপুর অঞ্চলে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে যৌথ কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
অবৈধভাবে ইতালিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের বৈধ করার বিষয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি বলেও স্পষ্ট করেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে দালালের মাধ্যমে অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি।
এ সময় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রসঙ্গেও কথা বলেন মীর শাহে আলম। তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে দুই লাখ শ্রমিক নেওয়ার বিষয়ে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ইতালির সহযোগিতার আরেকটি ক্ষেত্র হিসেবে খাদ্য অপচয় রোধ ও খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টিও বৈঠকে উঠে আসে। প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০১৫ সাল থেকে এ বিষয়ে কাজ করা ইতালির মিলান শহরের অভিজ্ঞতার আদলে বাংলাদেশেও কার্যক্রম পরিচালনায় দেশটি সম্মতি দিয়েছে। এ উদ্যোগের জন্য খুলনা সিটি করপোরেশনকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, ইতালীয় ভাষায় প্রশিক্ষণ এবং পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে বৈঠকে ঐকমত্য হয়েছে।
বাংলাদেশি স্থপতিদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে ইতালিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এ জন্য নির্দিষ্ট তালিকা পাঠানো হলে সিটি করপোরেশনের মেয়র ও স্থপতিদের ইতালি সফরে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়।
দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশি কর্মী ও প্রশিক্ষকদের ইতালীয় ভাষা শেখাতে ইতালি থেকে প্রতিনিধি পাঠানোর কথাও জানানো হয়েছে। দেশের একটি নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ ভাষা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
বৈঠক শেষে ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তনিও আলেসান্দ্রো বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, অভিবাসন এবং শহরগুলোর পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বা ‘টুইনশিপ’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সাক্ষাৎটি সৌজন্যমূলক হলেও বাংলাদেশ ও ইতালির সম্পর্ক আরও জোরদারে কীভাবে যৌথভাবে কাজ করা যায়, সে বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। তাই এ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি ও বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরও উৎসাহিত করতে ইতালি আগ্রহী।